কল্পনা করুন, আপনার হাতে থাকা ব্যাগটি তৈরি হয়েছে একেবারে ডাইনোসরের চামড়া দিয়ে। শুনতে অবাক লাগলেও, এমনই কিছু করার পরিকল্পনা করছে একদল বিজ্ঞানী ও ফ্যাশন উদ্যোক্তা। তারা বলছেন, বিলুপ্ত ডাইনোসর টি-রেক্সের জীবাশ্ম থেকে পাওয়া উপাদান ব্যবহার করে বানানো হবে ‘ল্যাব-গ্রোড লেদার’। আর সেই চামড়াতেই তৈরি হবে ক্লাচ, টোট বা হ্যান্ডব্যাগ।
কেমন হবে এই চামড়া?
এই চামড়া তৈরি হবে ল্যাবে। মানে কোনো প্রাণী না মেরেই বানানো যাবে লেদার। তারা বলছেন, এটি হবে পরিবেশবান্ধব এবং নির্মমতাহীন (ক্রুয়েলটি-ফ্রি)। গবেষকেরা টি-রেক্সের হাড় থেকে পাওয়া কোলাজেন নামের প্রোটিনের ওপর ভিত্তি করে কৃত্রিমভাবে এই চামড়া তৈরি করবেন।
আসল ডাইনোসরের চামড়া নয়
তবে অনেক বিজ্ঞানী এই প্রকল্প নিয়ে সন্দিহান। কারণ তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত টি-রেক্সের আসল চামড়ার ডিএনএ পাওয়া যায়নি। শুধু হাড়ে কোলাজেন পাওয়া গেছে। আর লেদার তো তৈরি হয় চামড়া থেকে, হাড় থেকে নয়। তাই এটিকে পুরোপুরি আসল ডাইনোসরের চামড়া বলা যাচ্ছে না।
দাম কত হতে পারে?
যদি এই ব্যাগ বাজারে আসে, তা হলে দাম যে আকাশছোঁয়া হবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রাণীর চামড়ার ব্যাগ বরাবরই বিলাসবহুল পণ্যের তালিকায় থাকে। যেমন, হার্মেসের একটি হিমালয়ান কুমিরের ব্যাগ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। গুচির একটি অ্যালিগেটর লেদার ব্যাগের দাম ২১ লাখ টাকা, লুই ভুঁতোর উটপাখির চামড়ার ব্যাগ বিক্রি হয় ১১ লাখ টাকারও বেশি দামে।
এখন অনেক ব্র্যান্ডই চামড়া বর্জন করছে
পশুর চামড়ার ব্যবহার নিয়ে এখন সারা বিশ্বেই সমালোচনা চলছে। পরিবেশ এবং প্রাণীকল্যাণের দিক ভেবে শ্যানেল, হুগো বস, ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম, মালবেরি’র মতো বড় ব্র্যান্ডেরা এখন আর এক্সোটিক লেদার ব্যবহার করছে না। এটা শুধু একটা ব্যাগ নয়। এক নতুন যুগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত।
শুধু ফ্যাশন নয়, গাড়ির জগতেও ঢুকতে পারে এই লেদার
এই টি-রেক্স লেদার যদি একসময় বড় আকারে উৎপাদন করা সম্ভব হয়, তাহলে তা শুধু ফ্যাশন দুনিয়ায় নয়, অটোমোটিভ বা গাড়ি শিল্পেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। এমনটাই ধারণা করছেন ভিএমএলের গ্লোবাল চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার (ইনোভেশন ও ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা) বাস করস্টেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘টি-রেক্স লেদারের মাধ্যমে আমরা আগেও ভবিষ্যতের বিলাসবহুল উপকরণ তৈরি করছি।’
এদিকে গবেষক কনন বলেন, ‘এই প্রকল্পের মূল বিষয়টা হলো যে একেবারে নতুন ধরনের উপকরণ তৈরি করা সম্ভব। যা আগে কখনোই দেখা যায়নি। একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও মজবুত, কোনো অভিনব বৈশিষ্ট্যযুক্ত উপকরণও বানানো যেতে পারে।’
তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ, নিউওয়ার্ক পোষ্ট, টাইমস নাউ