নতুন মেটালিক রঙে গুচির আইকনিক ‘জ্যাকি’ ব্যাগ এখন পার্টির নিখুঁত সঙ্গী। গুচির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সাবাতো দে সার্নো এই সংস্করণটির নাম দিয়েছেন ‘জ্যাকি নোটে’। ঝকঝকে রূপালি রঙের এই ব্যাগটিকে বলা হচ্ছে ‘নাইটটাইম ওয়্যারের জন্য পারফেক্ট’।
তবে এই ব্যাগের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। অনেকেই জানেন না, ১৯৬০-এর দশকে এটি ‘গুচি জ্যাকি’ নামে পরিচিত ছিল না। তখন ব্যাগটির নাম ছিল জি১২৪৪, একটি অভ্যন্তরীণ কোড। পরবর্তীতে সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি জ্যাকি কেনেডির নামেই এর নতুন নামকরণ হয়।
১৯৬৪ সালে এই ব্যাগটির প্রথম সংস্করণ বাজারে আসে। তখন জ্যাকি কেনেডি নিউইয়র্কের গুচির দোকান থেকে একসাথে ছয়টি ব্যাগ কিনে নেন। এরপর থেকে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় প্রায়ই দেখা যেত, তার বাহুতে গুচির এই বাঁকা আকৃতির ব্যাগটি। কখনো নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হওয়ার সময়, আবার কখনো ক্যাপ্রির রাস্তায় হাঁটার দৃশ্যে।
জ্যাকি ব্যাগের আধা–চাঁদের মতো বাঁকা আকৃতি ও পিস্টন ক্লোজার তখনকার ফ্যাশন ব্যাগগুলোর সঙ্গে একেবারেই ভিন্ন ছিল। সহজ অথচ স্টাইলিশ এই নকশা ১৯৭০–এর দশকের স্বচ্ছন্দ রুচির প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। এর ন্যূনতম ব্র্যান্ডিং (কোনো বড় লোগো নেই) ‘নীরব বিলাসিতা’ প্রেমীদের কাছে আরও প্রিয় করে তোলে। যা ২০২৩–২৪ সালে বিশ্ব ফ্যাশনে দারুণ জনপ্রিয় ছিল।
বছরের পর বছর ধরে ব্যাগটি নানাভাবে পুনরায় ডিজাইন হয়েছে। ১৯৯৯ সালে টম ফোর্ড এর ডিজাইনে নতুন ফিউচারিস্টিক বকল যোগ করেন। পরে ফ্রিদা জিয়ানিনি ‘নিউ জ্যাকি’ ও ‘জ্যাকি সফট’ নামে এই ব্যাগটির আধুনিক সংস্করণ আনেন। ২০২০ সালে আলেসান্দ্রো মিশেল আবার ব্যাগটির মূল নকশা ফিরিয়ে আনেন। নাম দেন ‘গুচি জ্যাকি ১৯৬১’। এটি ছিল একটি ছোট আকৃতির রঙিন সংস্করণ।
এবার সাবাতো দে সার্নো ডিজাইন করলেন নতুন ‘জ্যাকি নোটে’। এটি রূপালি ঝলমলে রঙের সংস্করণ। যেকোনো রাতের অনুষ্ঠানে দারুণভাবে মানিয়ে যাবে। এই ব্যাগটি পরা যাবে ক্রসবডি বা অফ দ্য শোল্ডার স্টাইলে। সঙ্গে রূপালি গহনা হলে তো কথাই নেই।
আর যদি আরও গ্ল্যামার চান, তাহলে চোখ রাখতে পারেন ঝকঝকে ক্রিস্টাল খচিত সংস্করণ কিংবা গুচির ক্লাসিক ‘জিজি’ লোগোযুক্ত ব্যাগের দিকে। যেগুলো গুচি গিফট ক্যাম্পেইনের অংশ।
এই ব্যাগকে এখনকার অনেক তারকাও ভালোবেসেছেন। কেন্ডাল জেনার, দোয়া লিপা ও ডাকোটা জনসনের মতো তারকাদের দেখা গেছে এই ব্যাগ হাতে। একসময় জ্যাকি কেনেডির হাত ধরে শুরু হওয়া এই ব্যাগ আজ আবার ফিরছে নতুন ঝলকে।