একদিনের ছুটিতে কোথায় যাবেন? রইল সেরা ৫ স্থান

নগর জীবনের ব্যস্ততায় মানুষ প্রায়শই হাঁপিয়ে উঠে। সুযোগ খুঁজে একটু অবসরের। আর সেই অবসর মিললেই কেউ বেরিয়ে পরেন শহর থেকে দূরে কোথাও। একদিনের ছুটিতেই কম খরচে যারা ঘুরতে চান, তাদের জন্য এবারের আয়োজন। রইল ভ্রমণের সেরা পাঁচটি স্থান।

বেলাই বিল, গাজীপুর
গাজীপুরের বেলাই বিল, মনোরম আর সুন্দর একটি জায়গা। যেখানে গেলে আপনার মন একেবারে জুড়িয়ে যাবে। ঢাকা থেকে মাত্র সাড়ে ২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই দেখা মিলবে এই বেলাই বিল। ট্র্যাফিক জ্যাম না থাকলে বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে মাত্র সোয়া ঘণ্টায় পৌছাতে পারেন বিলটির কাছে। এখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ডিঙ্গিতে করে ঘুরতে পারেন। এসব নৌকা বা ডিঙ্গি ভাড়া করতে পারেন সারাদিনের জন্য। ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলো নিজেরাও চালিয়ে ঘুরতে পারেন। এছাড়া নদীর পাশে ‘ভাওয়াল পরগণা’ (শ্মশান বাড়ি) আছে। চাইলে সেটিও দেখে আসতে পারেন।

মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে ভ্রমণের জন্যে মহেরা জমিদার বাড়িটিই যেন অন্যতম আকর্ষণ। এখানে রয়েছে তিনটি স্থাপনা। প্রতিটিতেই রয়েছে অসাধারণ কারুকাজ। এই মহেরা জমিদার বাড়ির বর্তমান নাম ‘মহেরা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার’। এ পর্যটন স্পটটির দূরত্ব ঢাকা থেকে মাত্র ৫৮ কিলোমিটার। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলেও সমস্যা নেই। মহাখালী থেকে পেয়ে যাবেন বাস। ঝটিকা সার্ভিস নামের বাসটিতে সরাসরি চলে আসতে পারেন এখানে। দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন এই জমিদার বাড়িতে।

মৈনট ঘাট, দোহার, ঢাকা
মৈনট ঘাটকে বলা হয় ‘মিনি কক্সবাজার’। বলা যায়, সমুদ্রের বেলাভূমির ছোট সংস্করণ এটি। এখানে এসে সূর্যাস্ত দেখার দারুণ অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। ঢাকার দোহার উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর কোলে এই মৈনট ঘাট। ঢাকা মাত্র ৫৬ কিলোমিটারের পথ। নদীর অপর পাড়ে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন। অবশ্য মৈনট ঘাটের এই হঠাৎ খ্যাতি ঘাটের দক্ষিণ পাশের চরটির জন্য। আর পথিমধ্যে পড়বে লক্ষ্মীপ্রাসাদ, জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, আন্ধার কোঠা ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে গুলিস্তান এবং মোহাম্মদপুর দিয়ে সহজেই মৈনট ঘাটে যাওয়া যায়। মোহাম্মদপুর থেকে বসিলা ব্রিজ দিয়ে আটি বাজার হয়ে রামেরকান্দি, রোহিতপুর, নবাবগঞ্জ, কার্তিকপুর, জয়পাড়া, বাঁশতলা হয়ে দ্রুত মৈনট ঘাটে চলে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত গাড়ি থাকলে মোহাম্মদুপুর হয়ে দেড় ঘণ্টার মধ্যে মৈনট ঘাটে এ পৌঁছানো সম্ভব। ওখানে ঘুরাঘুরি করে কার্তিকপুর বাজার থেকে ঐতিহ্যবাহী দই-মিষ্টি কিনে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

শালবন বিহার, কুমিল্লা
ঢাকা থেকে বাসে করে কুমিল্লা যেতে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। অল্প সময়েই বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থান থেকে ঘুরে আসতে পারেন। শালবন বিহার ছাড়াও এখানে রয়েছে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ময়নামতি প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর, লালমাই পাহাড় এবং ব্লু-ওয়াটার পার্ক (পিকনিক স্পট)। আর সুযোগ থাকলে কুমিল্লা সদরের কান্দিরপাড় এলাকায় অবস্থিত মাতৃভান্ডারের বিখ্যাত রসমালাই খেয়ে আসতে পারেন।