ফ্লাইটের টিকিটের দাম অনেক বেশি হওয়ায় অনেকে আরামদায়ক ভ্রমণে করতে পারেন না। খরচ বাঁচাতে বেছে নেন, বাস বা ট্রেন। কিন্তু বিদেশ ভ্রমণের সময় আর কোনো উপায় থাকেনা। তাই অনেকে কম টাকায় এয়ার টিকিট পেতে স্বীকার হন প্রতারণার। এমন সব ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে রইল এয়ার টিকিট কিনতে সহজ উপায়।
আগেই তারিখ নির্ধারণ নয়
ভ্রমণের সম্ভাব্য সময় ধরে ফ্লাইট টিকিট আগে বুক করুন। কারণ একই গন্তব্যে ভিন্ন ভিন্ন দিনে ফ্লাইটের দাম পরিবর্তিত হয়। পুরো মাসের ফ্লাইট ভাড়া ট্র্যাক করুন, এতে আপনি সবচেয়ে কম খরচের দিনটি বেছে নিতে পারবেন। সেই অনুযায়ী ভ্রমণ করুন।
ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করুন
বারবার ফ্লাইটের দাম সার্চ করলে অনেক সময় দাম বেড়ে যায়। এজন্য ইনকগনিটো মোড ব্যবহার করুন। যাতে আপনার সার্চ হিস্ট্রি সংরক্ষিত না হয়। এতে দামও কম থাকে।
মিথ বিশ্বাস করবেন না
অনেকের ধারণা, মঙ্গলবার ফ্লাইট বুক করলে দাম কম পড়ে। আসলে, এ ধরনের নির্দিষ্ট দিন ঠিক নেই। কারণ এয়ারলাইন্সের ভাড়া নির্ভর করে চাহিদা, আবহাওয়া ও জ্বালানির দাম ইত্যাদির ওপর।
সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ফলো করুন
অনেক এয়ারলাইন্স তাদের অফার বা ছাড় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। তাই ভালো অফার পেতে এয়ারলাইন্সের পেজ ও গ্রুপ ফলো দিয়ে রাখুন।
ফ্লাইট সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করুন
ভিন্ন ভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে দাম তুলনা করুন। শুধু একটিতে না খুঁজে, একাধিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে সবচেয়ে কম দামে টিকিট পাওয়ার সুযোগ বেশি থাকে।
ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম ব্যবহার করুন
যারা নিয়মিত ভ্রমণ করেন, তারা এয়ারলাইন্সের লয়্যালটি প্রোগ্রামে যোগ দিয়ে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেন। তাহলে পরবর্তীতে টিকিট কেনায় অনেকটা ছাড় পেতে পারেন। তাছাড়াও লয়্যালটি মেম্বারদের অনেক ধরনের অফারও দিয়ে থাকে এয়ারলাইন্সগুলো।
গন্তব্য পরিবর্তন করুন
কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা শহরের ফ্লাইট ভাড়া বেশি হলে, কাছাকাছি সস্তা গন্তব্যে যেতে পারেন। সেখান থেকে ট্রেন বা বাসে মূল গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এতে আপনার খরচ অনেকটাই কমে যাবে।
অফার ও ডিসকাউন্ট ট্র্যাক করুন
অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বা এয়ারলাইন্সের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। এতে বিশেষ অফার ও ফ্ল্যাশ সেলের তথ্য পেতে পারেন। যেখানে অনেক কমে টিকিট কেনার সুযোগ থাকে।
‘হিডেন সিটি’ ফ্লাইট ব্যবহার করুন
কখনও কখনও লে-ওভার ফ্লাইটের শেষ গন্তব্যের চেয়ে মধ্যবর্তী শহরে নেমে যাওয়া সস্তা পড়ে। তবে এটি ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক এয়ার এটার অনুমতি দেয় না।
স্টুডেন্ট ডিসকাউন্ট নিন
যদি আপনার বয়স ২৬-এর নিচে হয়। তাহলে অনেক এয়ারলাইন্স স্টুডেন্ট ডিসকাউন্ট দেয়। যা ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত কম খরচে ফ্লাইট বুক করতে সাহায্য করবে।
কুকিজ ডিলিট করুন
সার্চ হিস্ট্রি জমা থাকলে ফ্লাইটের দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত কুকিজ মুছে ফ্লাইট সার্চ করুন।
অগ্রিম টিকিট বুক করুন
ফ্লাইটের দাম সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়ে। তাই পরিকল্পনার অন্তত ২-৩ মাস আগে টিকিট কেটে নিলে খরচ কম পড়বে।
তুলনা করে টিকিট কিনুন
অনেক ওয়েবসাইট ভিন্ন এয়ারলাইন্সের টিকিটের দাম তুলনা করার সুযোগ দেয়। তুলনা করে সবচেয়ে সস্তাটি বেছে নিন।
ফেয়ার অ্যালার্ট সেট করুন
অনেক ওয়েবসাইট ও অ্যাপে ফেয়ার অ্যালার্ট সেট করার অপশন থাকে। যা দাম কমলে আপনাকে জানিয়ে দেবে।
ভিন্ন মুদ্রায় খোঁজ করুন
কখনও কখনও ভিন্ন মুদ্রায় ফ্লাইট সার্চ করলে কম দামে টিকিট পাওয়া যায়। বিশেষ করে যদি গন্তব্যের মুদ্রার মূল্য কম হয়।
ট্রাভেল রিওয়ার্ড কার্ড নিন
অনেক ব্যাংক ও ট্রাভেল কার্ড কোম্পানি ফ্লাইটের জন্য পয়েন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার করে। যা টিকিট কেনার সময় কাজে লাগবে।
স্থানীয় এয়ারলাইন্স নিন
অনেক ছোট এয়ারলাইন্স বড় সার্চ ইঞ্জিনে দেখায় না। তাই গুগলে সার্চ করে স্থানীয় এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট চেক করুন।
বিকল্প রুট বেছে নিন
প্রধান বিমানবন্দরের চেয়ে কাছাকাছি ছোট এয়ারপোর্টে ফ্লাইট নিলে দাম কম পড়তে পারে। সেটি বেছে নিতে পারেন।
রিফান্ডেবল টিকিট বুক করুন
রিফান্ডেবল টিকিট বেশি নিরাপদ। কারণ যদি ফ্লাইট বাতিল হয়, তাহলে পুরো টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
কানেক্টিং ফ্লাইট নিন
সরাসরি ফ্লাইটের চেয়ে কানেক্টিং ফ্লাইট অনেক সময় সস্তা হয়। ফ্লাইট ফিল্টার ব্যবহার করে সস্তা কানেক্টিং ফ্লাইট খুঁজুন।
এই কৌশলগুলো অনুসরণ করলে সহজেই কম খরচে ফ্লাইট বুক করতে পারবেন। আপনার ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।