ইসরায়েলের পাশে পশ্চিমারা, ইরানের পাশে কারা? 

ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে তিন শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরাক ও ইয়েমেনের দিক থেকেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই হামলা সামলাতে ইসরায়েলকে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে আমেরিকা ও যুক্তরাজ্য। ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশ দুটো। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ফ্রান্স ও জার্মানির পক্ষ থেকে ইরানি হামলার সমালোচনা করা হয়েছে। আমেরিকা ও যুক্তরাজ্য একের পর এক ইরানি ড্রোন ধ্বংস করছে। ইরানের হামলার খবর পেয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ইতিমধ্যে ফোনে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। 

হামলার পর হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর আমেরিকার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। তিনি গোটা পরিস্থিতি তদারকি করছেন।

আমেরিকার মতোই ইসরায়েলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে ব্রিটেন। প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক রোববার বলেন, ব্রিটেনের সেনাবাহিনীও ইতিমধ্যে আকাশপথে বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইরানের এই হামলার নিন্দা করেছেন তিনি।

এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবুক বলেন, ইরানের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। তেহরান যা করল, তাতে এই এলাকায় এখন বিশৃঙ্খলা শুরু হবে। এই অবস্থার দ্রুত অবসান দরকার। 

একইভাবে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শুলজ এক বিবৃতিতে ইরানের এই হামলাকে ‘অন্যায্য ও অতি দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একইসঙ্গে ইসরায়েলের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করল।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ হামলার জন্য ইরানের নিন্দা করেছেন। তিনি এও বলেছেন যে, এই হামলার মধ্য দিয়ে ইরান বুঝিয়ে দিল, তারা অঞ্চলটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায় না। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রতিরক্ষার স্বার্থেই ইসরায়েলের প্রতিরোধ করার অধিকার আছে বলে মত ব্যক্ত করেছেন তিনি।

‘অপ্রত্যাশিত’ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও। এ সম্পর্কিত বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হওয়ার হুমকি তৈরি হয়েছে। বিবৃতির শেষে ইসরায়েলের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে তিনিও ভোলেননি।

বাকি কোন দেশ কী বলছে

এক্ষেত্রে চীন তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান ব্যক্ত করেছে। এ সম্পর্কিত বিবৃতিতে চীন উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ‘সংঘাত অবশ্যই বন্ধ হতে হবে’ বলে উভয় পক্ষকে সতর্কও করেছে দেশটি। একই কথা বলেছে রাশিয়াও। 

এ বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই সবাই তাকিয়ে আরব দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার দিকে। এ বিষয়ক এক বিবৃতিতে সৌদি আরব কোনো পক্ষের দিকে না গিয়ে নিরাপদ অবস্থান বজায় রেখেছে। তারা এর মধ্য দিয়ে অঞ্চলটিতে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে সব পক্ষকে সংযত ও শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা সব পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযমের’ পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তারা অনুরোধ করেছে উত্তেজনা প্রশমনে এগিয়ে আসার জন্য। 

এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাবো পেত্রো বলছেন, এই হামলা অনুমিতই ছিল। বিশ্ব এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। আমেরিকার সহায়তার কারণে এভাবে গণহত্যা হচ্ছে। সবাই আসলে জানে যুদ্ধ কীভাবে শুরু হয়। কীভাবে শেষ হয় তা কেউ জানে না। ইসরায়েলের পাগলামি বন্ধ করা উচিত।  

মিশর সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়নি। তারা বলছে, এই নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করা হবে। জর্ডানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এভাবে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এই এলাকা ভয়াবহতার দিকে যাবে। তারাও সরাসরি কোনো পক্ষে কথা বলেনি।

আরও পড়ুন: