২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানোর পরপরই ইসরায়েলি একটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের একটি আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইরানের রেভ্যুলিউশনারি গার্ডসের জব্দ করা জাহাজটি এরই মধ্যে নিজেদের জলসীমায় রাখা হয়েছে। এর আগে শনিবার এই জাহাজ জব্দ করার সময় এতে পর্তুগালের পতাকা উড়ছিল বলে জানায় ইরান। এটি তখন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইরানের মধ্যকার জলসীমায় ছিল।
যুক্তরাজ্যের ম্যারিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বলছে, ফুজাইরা এলাকার উত্তরপূর্বাঞ্চলে ৯২ কিলোমিটার দূরে সাগর থেকে এই জাহাজ জব্দ করা হয়। এলাকাটি হরমুজ প্রণালীর কাছেই অবস্থিত।
এ ছাড়া আরেকটি ব্রিটিশ ম্যারিটাইম সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রেও এই জব্দ হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। তবে, তারা বিস্তারিত জানায়নি।
ম্যারিন ট্র্যাকিং সাইটগুলো বলছে, জাহাজটি জোডিয়াক ম্যারিটাইম নামক প্রতিষ্ঠানের এমএসসি অ্যারিস। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইসরায়েলি এক ব্যবসায়ী, নাম ইয়াল ওফার।
এ ব্যাপারে মন্তব্য চাওয়া হলে কিছু বলেনি প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি ইরানি কর্তৃপক্ষও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেট ভবনে হামলার জেরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য এগোচ্ছে মার্কিন দুটি রণতরী।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, শিগগিরই হামলা চালাবে ইরান। এসময় ইসরায়েলে হামলা না চালাতে ইরানকে সতর্কও করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার স্থানীয় সময় রোববার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সি ওয়ার্ল্ডওয়াইড থ্রেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের মাটিতে হামলা চালানো হতে পারে। ইরানের কাছে দুই হাজার কিলোমিটার দূরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা আছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরে পূর্ব দিকে তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ স্থান পরিবর্তন করছে। সেইসঙ্গে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনাও মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে আমেরিকা।
ইসরায়েল-ইরান সম্ভাব্য যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়িয়েছে আমেরিকা। মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার এবং অন্যান্য সরকারের আলোচনা করে একটি প্রতিষ্ঠিত সুইস চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানকে বার্তা পাঠাতে কাজ করছে। বাইডেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিলাকেও ইরানের হুমকি নিয়ে জরুরি আলোচনার জন্য ইসরায়েলে পাঠিয়েছেন।
এদিকে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার জেরে নাগরিকদের ওপর ইরান, ইসরায়েল, লেবানন ও ফিলিস্তিনে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, আমেরিকা, ফ্রান্স ও পোল্যান্ড।
গত ১ এপ্রিল দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েলি হামলায় ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) সাত সদস্য নিহত হন। এদের মধ্যে দুজন বাহিনীটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন।
আরও পড়ুন:
- আমরাই জিতব: নেতানিয়াহু
- ইরাক ও ইয়েমেন থেকেও হামলা হয়েছে, স্বীকার করল ইসরায়েল
- হামাস যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে, দাবি ইসরায়েলের
- ‘আয়রনক্ল্যাড’ দিয়ে সহযোগিতার জন্য আমেরিকাকে ধন্যবাদ দিল ইসরায়েল
- উভয় পক্ষকে ‘সংযত’ থাকার আহ্বান চীনের
- ইসরায়েলে স্কুল–বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসছে আজ
- ইরানের হামলা নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলবেন বাইডেন
- ইসরায়েলে ইরানের হামলা


অস্ত্রশস্ত্রে কে এগিয়ে, ইরান নাকি ইসরায়েল? 
