‘জওয়ান’ শাহরুখ কোন লড়াইয়ে নামলেন?

কিং খান নামেই বলিউড ও সারা বিশ্বে পরিচিত অভিনেতা শাহরুখ খান। গত কিছুদিনে অবশ্য রাজার সেই রাজত্ব প্রায় যায় যায় অবস্থায় ছিল। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া দুটি চলচ্চিত্রে আবার প্রবল বিক্রমে নিজের রাজত্ব পুর্ণদখল করার পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছেন শাহরুখ।

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ১১:০১ পিএম

আলোচনার ঝড় উঠেছে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁর ‘জওয়ান’ ছবিটি নিয়ে। এই ছবিতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে এমন কিছু বক্তব্য দিয়েছেন শাহরুখ, যা আগে কখনোই তিনি করেননি। প্রশ্ন উঠছে, ‘জওয়ান’ হয়ে আসলে কোন লড়াইয়ে নামলেন বাদশা?

দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে ছবির দৃশ্য। ছবি: ধর্মা প্রডাকশন

কিং খানের সবচেয়ে বড় পরিচয় রোমান্টিক হিরো হিসেবে। গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে কয়েক বছর আগ পর্যন্তও তিনি এই পরিচয়েই স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে ‘পাঠান’ সিনেমার মুক্তির পর পরই অ্যাকশন হিরো অবতারে আবির্ভাব ঘটে শাহরুখ খানের। এবার সেই একই জনরার নতুন চলচ্চিত্র ‘জওয়ান’ মুক্তি পেয়েছে। এরই মধ্যে টিকিট বিক্রি থেকে আয়ের বিচারে ভারতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় ‘ওপেনিং’ পেয়ে গেছে ‘জওয়ান’।

পাঠান বনাম জওয়ান। ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনেই ভারতে আয় পার হয়ে গেছে শত কোটি রুপি। ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকাল (১০ সেপ্টেম্বর) পর এই আয়ের জোয়ার আরও প্রবল হতে পারে। কারণ রোববার ভারতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন, ফলে সিনেমাপ্রেমীরা বিপুল পরিমাণে জড়ো হতে পারেন হলগুলোতে। ওদিকে ভারত বাদে বিশ্বের অন্যান্য বাজার থেকে আয় তো আছেই!

জওয়ানের তিন ক্যারেকটার—শাহরুখ, নয়নতারা ও বিজয় সেতুপাতি। ছবি: রেড চিলিস

‘জওয়ান’ কোন মাপের হিট সিনেমা হবে—সেই আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে এখন এতে থাকা শাহরুখ খান অভিনীত চরিত্রের ডায়লগ নিয়েও বেশ চর্চা উঠছে। শাহরুখ এর আগে তাঁর কোনো সিনেমায় ভারতের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক বিষয় নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। এবার ‘জওয়ান’ ছবিতে সেই বিরল কাজটিই তিনি করেছেন এবং তা করেছেন অত্যন্ত স্পষ্ট উচ্চারণে। যেমন: শাহরুখ ভারতে কৃষকদের আত্মহত্যা ও তার কারণ নিয়ে কথা বলেছেন। শাহরুখের অভিনীত চরিত্র ‘স্টেটমেন্ট’ দিয়েছে নির্বাচন, নির্বাচনের পদ্ধতি ও সঠিক জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের বিষয়টি নিয়েও। সেই সঙ্গে জাত-পাত ও ধর্মের ভিত্তিতে করা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বর্জন করার আহ্বানও নিজ মুখেই জানিয়েছেন শাহরুখ খান।

এ ধরনের ‘স্টেটমেন্ট’ ঘরানার বক্তব্য এর আগে কোনো চরিত্রেই খুব একটা স্পষ্টভাবে দেননি রোমান্স কিং। তবে কি ভারতের বর্তমান রাজনীতির ধারাই বদলে দিল তাঁকে? ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির সঙ্গে শাহরুখের অতীত সম্পর্কের সমীকরণ মাথায় নিলে কিন্তু তেমনটাই মনে হতে বাধ্য।

মাই নেম ইজ খান ছবির দৃশ্যে শাহরুখ। ছবি: রেড চিলিস

আমেরিকার টুইন টাওয়ারে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটি মুসলিমদের ব্যাপারে যে অহেতুক ভীতি উৎপাদনের মতো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন সকলেরই মোটামুটি জানা। ওই সময়টায় মার্কিনিদের বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছিলেন অনেক মুসলিম, হয়েছিলেন শাহরুখও। পরে ২০১০ সালে ‘মাই নেম ইজ খান’ নামের চলচ্চিত্রে পশ্চিমাদের এই ইসলামভীতির বিষয়টি তুলে এনে এর সমালোচনাও করেছিলেন কিং খান। এর কয়েক বছর পরই ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করে। ওই সময়ে শাহরুখ মন্তব্য করেছিলেন এই বলে যে, দেশে এমন এক পরমত-অসহিষ্ণুতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যে পুরো ভারত একসময় হয়তো অন্ধকার যুগে ফেরত যেতে পারে! ওই মন্তব্যের পর বিজেপির শীর্ষ নেতারা শাহরুখ খানকে ‘সন্ত্রাসী’র সঙ্গে তুলনা করে লাগাতার বিষোদগার করেছিলেন। একইভাবে ২০২১ সালে শাহরুখের ছেলে আরিয়ানকে গ্রেপ্তারের ঘটনাতেও অনেক সমালোচক বলেছিলেন যে, মূলত তিন খানের সাম্রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণে নিতেই তেমনটা করা হয়েছিল। বহু বিশ্লেষকই তখন ওই ঘটনাকে কট্টরপন্থীদের বলিউডকে বাগে নেওয়ার কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এমনকি কিছুদিন আগে মুক্তি পাওয়া ‘পাঠান’ সিনেমা নিয়েও উগ্রবাদী ও কট্টরপন্থীদের বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন শাহরুখ। শুরু হয়েছিল বয়কট আন্দোলন। যদিও তা ‘পাঠান’-এর বক্স অফিসের সাফল্য আটকাতে পারেনি।

‘পাঠান’ সিনেমায় সেভাবে রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি শাহরুখ। তবে এবার ‘জওয়ান’-এ শাহরুখের অভিনীত চরিত্র কৃষকদের আত্মহত্যা নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলেছে সরকারি সিস্টেমের প্রতি। এর কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে বড় বড় ব্যবসায়ীদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টিকে। সেই সাথে রাজনীতিকদের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। জাত-পাতের রাজনীতি, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার বিষয়টিকে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ওপরের ঘটনাপ্রবাহকে পাশাপাশি সাজালে এখন একজন দর্শক তবে কী ভেবে নেবেন?

বলিউড সামাজিক বিষয় নিয়ে এর আগে সিনেমা বানালেও, সাধারণত বলিউডের সুপারস্টাররা (শাহরুখ, আমির বা সালমান) কখনও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয়টি পর্দায় সরাসরি ও স্পষ্টভাবে আনতেন না। অবশ্য ভারতের দক্ষিণী সিনেমায় এই ট্রেন্ড আগে থেকেই ছিল। সিস্টেমকে প্রশ্ন করার সাহস দীর্ঘদিন ধরেই দেখিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার পরিচালকেরা। এ ক্ষেত্রে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সময়ও কিং খান বেছে নিয়েছেন দক্ষিণী পরিচালক অ্যাটলিকেই। তিনি ‘জওয়ান’-এর গল্প লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন। সিনেমার কলাকুশলীদেরও অনেকেই দক্ষিণের। ফলে বলিউডের সাফল্যের পেছনেও দক্ষিণী মেধার নির্ভরতা এখন মেনে নিতেই হচ্ছে। বলিউড আদৌ সুপার বা মেগাস্টারদের নিয়ে এমন সিনেমা বানাতে পারবে কিনা, সেই সংশয়ও উঠতে বাধ্য।

শাহরুখ খান ও অ্যাটলি কুমার। ছবি: সংগৃহীত
‘জওয়ান’ কি তবে শুধুই স্টেটমেন্টনির্ভর সিনেমা? এক কথায়, না। এটি পুরোপুরি মাসালা মুভি। বেশ কিছুক্ষণ দেখার পর পুরনো দিনের বাংলা বা হিন্দি সিনেমার সেইসব ক্লিশে গল্প বা দৃশ্যের কথাও মনে পড়ে যাবে। অনেকেই ‘জওয়ান’-এর গল্পে থাকা প্রচুর টুইস্টের প্রশংসা করছেন বটে। তবে এই সিনেমায় টুইস্টের মসলা একটু বেশিই হয়েছে। ফলে এক পর্যায়ে নায়ক বুকে-পিঠে গুলি খেলেও দর্শকদের চিন্তিত হওয়ার ফুরসতটুকুও মেলেনি। আহা, টুইস্ট আছে না!

তবে উপমহাদেশের মাসালা মুভির ফর্মুলা মানলে এসব সহ্য করে নিতেই হবে। সেদিক থেকে সিনেমা হলে হইচই করে দেখার মতোই হয়েছে ‘জওয়ান’। শাহরুখ খান এখানে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ক্যারেক্টার, একে যতটা বড় করে দেখানো সম্ভব—তার কোনো চেষ্টারই ত্রুটি রাখেননি পরিচালক। ‘পাঠান’-এর তুলনায় ‘জওয়ান’ তাই অবশ্যই ‘বেটার’।

শাহরুখ খান। ছবি: রেড চিলিস

মূলত নাচ, গান ও অ্যাকশনের মসলার পাশাপাশি দেশ, জাতি, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে থাকা শাহরুখ খানের বক্তব্যগুলোই ‘জওয়ান’কে আলাদা করে দিয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে ওঠা আলোচনা প্রবল বিতর্কে রূপ নিতেই পারে। তখন আর ‘জওয়ান’-এর শনৈ শনৈ উন্নতি ঠেকায় কে! 

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজন জাহিদুল ইসলাম ও ফয়সাল আহমেদ রাব্বীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
হবিগঞ্জে পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের মূল হোতাসহ মোট ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জে র‍্যাব-৯-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব কর্মকর্তারা।
বেলুচিস্তানের খোজদার জেলার জিদিতে চালানো এক অভিযানে ১৯ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যার দাবি করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। বেলুচিস্তান পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর