পপিকে হালকাভাবে দেখছেন? চীনের ইতিহাসই পাল্টে দিয়েছিল পপি নিয়ে যুদ্ধ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:০৪ পিএম

প্রায় ২৫ হাজার কেজি পপি বীজ বা পপি সিড গত বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পাখির খাবার ঘোষণা করে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হচ্ছিল বাংলাদেশে এই আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। জব্দ করা পপি বীজের দাম সাড়ে ৬ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তারা।

এই পপি বীজ কী, রান্নায় ব্যবহার্য বা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ (মরফিন) তৈরিতে ব্যবহৃত পোস্তদানা আর হিরোইনের মতো মাদকদ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত পপির মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সে নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণও হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসেও তো আফিম পপি নামে পরিচিত এই গাছের বড় অবদান আছে। ‘অপিয়াম ওয়ার-১’ ও ‘অপিয়াম ওয়ার - ২’ বা অ্যাঙলো-চাইনিজ ওয়ার নামে পরিচিত চীনের ইতিহাস বদলে দেওয়া দুটি যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে এই পপি সিড। উনিশ শতকের মাঝামাঝির ওই দুই যুদ্ধ চীনের ইতিহাস আর মানচিত্র কীভাবে পাল্টে দিয়েছিল, সে গল্পই হোক –

প্রথম অপিয়াম যুদ্ধটা হয়েছিল ১৮৩৯ সাল থেকে ১৮৪২ সালে, চীনের সঙ্গে লড়েছিল ব্রিটেন। দ্বিতীয় অপিয়াম যুদ্ধ হলো ১৮৫৬-৬০ সালে, সেখানে চীনের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ফ্রান্সও। দুই যুদ্ধেই চীনের চিং রাজপরিবার হেরে যায়। হারের ফল? দুই যুদ্ধের পরই অসম অনেক চুক্তিতে যেতে বাধ্য হলো চীন। বাণিজ্য বলুন, আইনগত সুবিধা বলুন বা অঞ্চলের দখল – সবদিকেই চীনের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে নেয় প্রথমে ব্রিটেন ও পরে ব্রিটেনের সঙ্গে ফ্রান্সও। তাদের পথ ধরে পরে জাপান, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রও আসে। উনিশ শতকের চল্লিশের দশক থেকে পরের ১০০ বছরকে চীন দেখে ‘সেঞ্চুরি অব হিউমিলিয়েশন’ হিসেবে।

দুই যুদ্ধের সঙ্গে অপিয়াম বা পপি সিডের সম্পর্ক কী?

দুই যুদ্ধের আগে আকারে চীনের অর্থনীতি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ধনী। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ভারত ও আশপাশের অঞ্চলে বাণিজ্য ও দখল বাড়িয়ে চলা ব্রিটেনের আগ্রহ ছিল চীনের চা, রেশম আর চীনামাটি নিয়ে। ইউরোপে সেসবের বেশ চাহিদা ছিল। কিন্তু ব্রিটেনের তেমন কোনো পণ্য ছিল না যা চীনের আগ্রহ জাগাতে পারত। তারা শুধু পণ্যের বিনিময়ের ব্রিটেনের রৌপ্যমুদ্রাতেই আগ্রহী ছিল। ফলাফল? বাণিজ্য ঘাটতি। চীনের পণ্য কিনতে ব্রিটেনের রুপার মুদ্রা চীনে যেত, কিন্তু চীন তাদের কাছ থেকে তেমন কিছু কিনতে চাইত না বলে চীন থেকে মুদ্রা বের করে আনার রাস্তা ছিল না ব্রিটেনের কাছে।

এর পাশাপাশি ব্রিটেনের অসন্তোষ ছিল চীনে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার সীমাবদ্ধতা আর নিয়মের কড়াকড়ি নিয়ে। সব মিলিয়ে আঠার শতকের শেষ দিকে (১৭৯২-৯৩) বাণিজ্য চুক্তি করতে একটি কূটনৈতিক দলকে চীন পাঠিয়েছিল ব্রিটেন – চীনে ব্রিটেনের প্রথম দূত পাঠানোর ঘটনা সেটি। জর্জ ম্যাককার্টনির নেতৃত্বে যাওয়া সেই কূটনৈতিক মিশন ‘ম্যাককার্টনি মিশন’ নামে পরিচিত। উদ্দেশ্য ছিল, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তিতে যাওয়া। সে সময়ে শুধু গুয়াংজু (ব্রিটিশদের কাছে ক্যান্টন নামে পরিচিত ছিল) বন্দর ব্যবহারের অনুমতি পেত ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা, ম্যাককার্টনি মিশন আরও বন্দর ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। ব্রিটেনের আরও পণ্য কিনতে চীনকে রাজি করাতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্রিটানিকায় লেখা বর্ণনা বলছে, অনেক ভুল বোঝাবুঝি দেখা সেই আলোচনায় ব্রিটেনের সব প্রস্তাবই নাকচ করে দেয় চীনের চিং রাজপরিবার। তবে ওই মিশন থেকে চীনের সংস্কৃতি, রাজনীতি ও ভৌগোলিক বিশদ ধারণা পায় ব্রিটেন।

ম্যাককার্টনি মিশনের ব্যর্থতার পর ঘি তুলতে আঙুল বাঁকা করার পথ ধরে ব্রিটেন। চীনের কাছ থেকে রৌপ্য মুদ্রা বের করার এক অব্যর্থ টোটকা আবিষ্কার করে তারা – পপি বীজ বা অপিয়াম। উনিশ শতকের শুরু থেকে ব্রিটিশ ভারতে উৎপাদিত এই মাদকজাতীয় পণ্য অবৈধ পথে চীনের মানুষের কাছে বিক্রি করতে শুরু করেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা, অবশ্যই রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে। ১৮২০-এর দশক থেকে পপি বীজের বাণিজ্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করল। ১৮৩০-এর দশক আসতে আসতে চীনের লাখো মানুষ অপিয়ামে আসক্ত হয়ে পড়ে, চীন থেকে বিপুল অঙ্কের রৌপ্যমুদ্রা বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ‘বোনাস’ হিসেবে সামাজিক অবক্ষয় তো ছিলই।

১৮৩৯ সালে লিন জেঝু নামের এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে চীনের সরকার ক্যান্টনে (গুয়াংজু) ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের মজুত করা প্রায় ১৪০০ টন পপিবীজ ধ্বংস করে ফেলে। ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণই মূল কথা হলেও চীনের এই আক্রমণাত্মক কাজের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে ছোট্ট একটি ঘটনাও। সে বছরের জুলাইয়ে ব্রিটেনের কয়েকজন নেশাগ্রস্ত নাবিক চীনের এক গ্রামবাসীকে মেরে ফেলে। কিন্তু তাদের কোনো লোকের বিচার চীনের আইনের অধীনে হবে, সেটা মেনে নিতে রাজি ছিল না ব্রিটেন। তারা ওই নাবিকদের চীনের আদালতে পাঠাতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে চীন যখন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের মজুত করা পপিবীজ ধ্বংস করে, ব্রিটেন সেটাকে ভালোভাবে নেয়নি। ব্যবসাটা বৈধ কি অবৈধ সেটা পরের প্রশ্ন, তারা চীনের এই কাজকে দেখেছে তাদের বাণিজ্য করার অধিকারের ওপর আক্রমণ হিসেবে। ব্যস, যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে দেয় তারা।    

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চিং রাজপরিবারের সময়ের চীন অর্থে, বাণিজ্যে এগিয়ে থাকলেও তাদের অস্ত্রশস্ত্র ছিল আগের শতকের। শিল্প বিপ্লবের পরের ব্রিটেন যেখানে বাষ্পইঞ্জিন চালিত, লোহার কাঠামোর, গোলাবারুদসমৃদ্ধ জাহাজ নিয়ে এসেছে, চীনের সৈন্যরা নেমেছেন তলোয়ার, বল্লম আর পুরোনো যুগের কামান নিয়ে। ফল কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় তাই তেমন ছিল না।

১৮৪০-এর শুরুর দিকেই চীনে জাহাজ পাঠায় ব্রিটেন, জুনে সেটি পৌঁছায় হংকংয়ের পার্ল নদীর মোহনায়। সেখানে চীনের অবরোধ সহজেই গুঁড়িয়ে ব্রিটিশ নৌবহর এগিয়ে যায় ক্যান্টনের (গুয়াংজু) দিকে। কয়েক মাস ধরে চলা দেনদরবারে লাভ না হওয়ার পর ব্রিটিশরা গুয়াংজুতে হামলা চালায়, ১৮৪১ সালের মে মাসে শহরটার দখলও নিয়ে নেয়। ১৮৪২ সালের আগস্টে ব্রিটিশরা নানজিং (ন্যাংকিং) দখল করে নিলে ‘নানজিং চুক্তি’তে যেতে বাধ্য হয় চিং রাজপরিবার।

চীনের জন্য অপমানের শতকের শুরুর চিহ্ন হয়ে থাকা সেই অসম চুক্তিতে চীন বলতে গেলে কিছুই পায়নি, হারিয়েছে অনেক কিছু। ব্রিটেনকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ তো দিতে হয়েছেই, তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হয়েছে চুক্তির আরও কিছু শর্তে। হংকংয়ের মালিকানা তুলে দিতে হয়েছে ব্রিটিশদের কাছে, যা আবার চীন ফেরত পেতে পেতে লেগে গেছে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত! এর আগে শুধু গুয়াংজু বন্দরেই চীনে আসা বিদেশি ব্যবসায়ীরা শর্তসাপেক্ষ ব্যবসার অনুমতি পেলেও ওই চুক্তিতে আরও চারটি বন্দরে ব্যবসার সুযোগ বের করে নেয় ব্রিটেন। আময়, ফুচো, নিংপোর পাশাপাশি সাংহাই বন্দরেও ব্যবসায়ের অনুমতি দিতে হয়েছে। হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাংহাই বন্দরের অনুমতি এই অঞ্চলে ব্যবসায়িক দাপট বাড়ানোর পথে ব্রিটেনকে এগিয়ে দিয়েছে অনেকদূর। বন্দরগুলোতে এর আগে চিং রাজপরিবারের মনোনীত ‘কোহং’ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ওই চুক্তির পর ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো ব্যবসা করার অনুমতি পেয়েছেন। এই চুক্তির পথ ধরে ১৮৪৩ সালে ‘বোগ চুক্তি’ করতে বাধ্য হয় চীন, যে চুক্তিতে ব্রিটিশদের জন্য সুবিধা রাখা হয় যে, চীনে অন্য যেকোনো বিদেশি পক্ষ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে যে সুবিধা পাবেন, ব্রিটিশরা তার সবই পাবেন। পাশাপাশি শর্ত রাখা হয়, চীনে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকরা চীনের নয়, ব্রিটেনের আইনের অধীন থাকবেন। কলোনি না হয়েও অনেকাংশে ‘সেমি কলোনি’ হয়ে ওঠে চীন।

সেকেন্ড অপিয়াম ওয়ার/ অ্যাংলো-চায়না ওয়ার

কিন্তু ওই চুক্তিগুলোতে সে সময়ে যুদ্ধটা থামলেও দ্বন্দ্ব থামেনি। প্রথম যুদ্ধে শোচনীয় হার, বিদেশি শক্তির দাপট আর চিং রাজপরিবার ও প্রশাসনের দুর্নীতি মিলিয়ে চীনের ভেতরেও দ্বন্দ্ব ডানা মেলেছে। ধর্মকে পুঁজি করে চীনের ভেতরেই তাইপিং বিদ্রোহ শুরু হয় চিং রাজপরিবারের বিরুদ্ধে, যার নেতৃত্বে ছিলেন নিজেকে ‘যিশু খ্রিস্টের ভাই’ দাবি করা হং জিউকুয়ান। পঞ্চাশের দশকে এ নিয়েই যখন ব্যতিব্যস্ত চিং রাজপরিবার, ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ আবার এল। দাবি, চীনে আরও বেশি ব্যবসায়ের অধিকার দিতে হবে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ফ্রান্স।

এবারেও যুদ্ধের আগে তুষে আগুন ধরানোর কাজ করেছে ছোট্ট একটা ঘটনা। ১৮৫৬ সালের অক্টোবরে চীনের কয়েকজন কর্মকর্তা গুয়াংজু বন্দরে অবস্থান করা ‘অ্যারো’ নামে ব্রিটেনের এক জাহাজে উঠে বেশ কয়েকজন চীনা নাবিককে আটক করে। ব্রিটেনের অজুহাতের ব্যবস্থা হয়ে গেল।

অক্টোবরেই ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ পার্ল নদীর মোহনায় চলে এল। গুয়াংজুতে বোমাবর্ষণ চলল। দুই পক্ষের যুদ্ধ শুরু হলো। ডিসেম্বরে চীনারা গুয়াংজুতে বিদেশি ফ্যাক্টরি, গুদাম জ্বালিয়ে দিলে উত্তেজনা বেড়ে যায়।

এসবের মধ্যে ফ্রান্স যোগ দিয়েছে কেন? তাদের দাবি ছিল, ওই বছরের শুরুর দিকে তাদের এক ধর্মপ্রচারককে মেরে ফেলেছে চীনের সেনারা। ওদিকে ভারতে এক বিদ্রোহ দমন করতে ব্রিটিশ সৈন্যদের একটা দল ভারতে যেতে হওয়ায় ফ্রান্স আর ব্রিটেনের সেনাদের এক জায়গায় আসতে কিছু বাড়তি সময় লাগে বটে। শেষ পর্যন্ত ১৮৫৭ সালের শেষদিকে যৌথবাহিনী হামলা শুরু করে। গুয়াংজু দ্রুতই দখলে নিয়ে নেয়, সেখানকার আপসবিমুখ প্রশাসককে সরিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রশাসক বসায়। ১৮৫৮ সালের মে মাসের মধ্যে যৌথবাহিনী তিয়ানজিনে পৌঁছায়, জুনের মধ্যে চীনারা ‘তিয়ানজিন চুক্তি’তে যেতে বাধ্য হয়। চুক্তিতে কী ছিল? বেইজিংয়ে বিদেশি দূতদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, আরও কিছু বন্দর খুলে দেওয়া, খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের চীনের ভেতরে অবাধ চলাফেরার শর্ত। সে বছরের শেষদিকে সাংহাইতে আরেক দফা আলোচনার পর পপিবীজের ব্যবসাকেও বৈধতা দিতে বাধ্য হলো চীন।

কিন্তু যুদ্ধ সেখানেই শেষ হলো না। ১৮৫৮ সালের শেষ অর্ধে তিয়ানজিন ছেড়ে যাওয়া ব্রিটিশ ও ফ্রেঞ্চ সৈন্যরা পরের বছরের জুনে আগের বছরের চুক্তিটাকে আনুষ্ঠানিক করার উদ্দেশ্যে বেইজিং যাওয়ার পথে আবার তিয়ানজিনে পৌঁছায়। দাবি করে, হাই নদীর মুখে ডাগু দুর্গের ভেতর দিয়ে বেইজিং যেতে দিতে হবে তাদের। চীন রাজি হয়নি, বিকল্প রাস্তা প্রস্তাব করে। কিন্তু ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী তা না মেনে ডাগু দূর্গের ভেতর দিয়েই যাওয়ার চেষ্টা করে। চীনের সেনারা বাধা দেয়, উত্তেজনার কারণে আগের বছরের চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সই করতে অস্বীকৃতি জানায় চীন। যুদ্ধের দামামা আবার বাজে!

১৮৬০ সালের আগস্টে আরও বড় যুদ্ধজাহাজ নিয়ে ব্রিটিশ ও ফ্রেঞ্চ সেনারা চীনে পৌঁছায়। ডাগু ধ্বংস করে নদী ধরে এগিয়ে অক্টোবরে বেইজিং দখল করে। শুধু দখলই করেনি, লুট করেছে। তার চেয়েও চীনকে বড় ধাক্কা দিয়েছে সে সময়ে চীনের সংস্কৃতির এক গর্বের জায়গা – তাদের সম্রাটের রাজসিক প্রাসাদ ‘ইউয়ানমিং গার্ডেন’ পুড়িয়ে দিয়ে। সে মাসের শেষ দিকে চীন চুক্তিতে সই করে। যেখানে তারা তিয়ানজিন চুক্তির শর্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি তো দিয়েছেই, পাশাপাশি হংকংয়ের দক্ষিণে কওলুন উপদ্বীপও ব্রিটিশদের দিয়ে দেয়।

দুই যুদ্ধের প্রভাব চীনের ওপর কীভাবে পড়েছে?

যুদ্ধগুলোর আগে চিং সাম্রাজ্যের অধীন চীন ছিল স্বনির্ভর, ধনী। চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের যা বাণিজ্য হতো গুয়াংজুতে চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে। যুদ্ধের পর মানচিত্রই বদলে গেল। হংকং চীনের হাতছাড়া হলো, যেটি পরে বনে গেল ব্রিটেনের নৌঘাঁটি এবং ভারত-ব্রিটেন-চীন বাণিজ্যের কেন্দ্র। এক সময়ের জেলেপাড়া হংকংয়ের আধুনিক বন্দরনগরীতে বদল হয়ে থাকল পূর্ব এশিয়ায় পশ্চিমের দাপটের শুরুর বিন্দু। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পথ ধরে জাপান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রও এসব বন্দর ধরে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের দাপট প্রতিষ্ঠা করে। চীনের পতন ও জাপানের উত্থানের শুরুও ঘোষণা করে এই সময়টা। ১৮৯৫ সালে চীনকে যুদ্ধে পরাজিত করে তাইওয়ানের দখলও নিয়ে নেয় জাপান, যা তাদের হাতে ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের আগ পর্যন্ত।

শেষ পর্যন্ত বিশ শতকের শুরুর দিকে চিং সাম্রাজ্যের পতন হয়ে ‘রিপাবলিক অব চায়না’র প্রতিষ্ঠার পথে যাত্রাও শুরু এই পপিবীজের বাণিজ্য থেকে হওয়া যুদ্ধের পর থেকে।

চীন যে এখন বেল্টস অ্যান্ড রোডস ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) মাধ্যমে এশিয়া ও আফ্রিকায় বাণিজ্যের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে হাঁটছে, তাইওয়ান ও হংকংয়ে আবার নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছে, তাদের সে জাতীয়তাবাদের মূলে আছে প্রথম অপিয়াম ওয়ারের পর থেকে এক শ বছরের (১৮৪০-১৯৪০) অপমানের জবাব দেওয়ার তাড়ণা। সেটা মাও সে তুংয়ের সময় থেকে ‘পশ্চিমা আগ্রাসন’কে শত্রু মেনে ‘ক্লোজড ইকোনমি’ নিয়ে এগিয়ে চলার সময়ই বলুন, ডেং সিয়াওপিংয়ের সময়ে বাজার উন্মুক্ত করে দিলেও সেটা পুরোপুরি চীনের শর্তের অধীন করে রাখা বলুন কিংবা এখন শি জিনপিংয়ের সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বাড়তে থাকা দাপটের কথাই বলুন… চীন নিশ্চিত করতে চায়, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে না।

চলতি মাসের শুরুতেই ভারতের রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে পাঠানো একটি ভুল ই-মেইল পুরো কূটনৈতিক পাড়ায় তোলপাড় ফেলে দেয়। এতে বলা হয়, দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে হতে যাওয়া চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠানটি বাতিল করা...
পাকিস্তানের আকাশ থেকে ভারতের রাফালকে টক্কর দেওয়া সেই বহুল আলোচিত যুদ্ধবিমান এবার কি উড়বে বাংলাদেশের আকাশে? ঠিকই শুনেছেন। তথ্য উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান জানিয়েছেন, চীন থেকে ৪.৫ জেনারেশনের অত্যাধুনিক...
হঠাৎ করেই যেন বদলে গেল দৃশ্যপট। ভারতের টানা প্রচেষ্টা এবং বহু আলোচনার পরও স্থগিত হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর। আজকের আমরা বিশ্লেষণ করব—বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এই মুহূর্তে ঠিক কী ঘটছে, ঢাকার এই...
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বমঞ্চে শক্তির সমীকরণই বদলে দিয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান মিলে করেছে এক ঐতিহাসিক চুক্তি, যার নাম ‘মক্কা...
জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড আইআরজিসি।
যশোরের শার্শায় একই বাড়িতে বাবা ও দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে শার্শা থানা-পুলিশ। শিশু দুটিকে হত্যার পর তাদের বাবা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। বিষয়টি...
রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিকে ঘষামাজা করে চলছে আবারও চালুর প্রস্তুতি। তবে সংস্কারের কোনো অনুমতি ছাড়া এ ধরনের সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ বেআইনি বলে...
খুলনা ভৈরব নদের জেলখানা ঘাট এলাকায় ট্রলার ও ফেরি সংঘর্ষে হয়েছে। এতে ৩৫ থেকে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কেউ নিখোঁজ আছে কিনা তা...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর