রূপপুর থেকে কবে মিলবে বিদ্যুৎ, প্রতি ইউনিটের দাম কত?

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্প হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আগামী মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। এটি চালু হলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়—ব্যবহৃত বিপজ্জনক পারমাণবিক বর্জ্য রাশিয়া কীভাবে ফেরত নিয়ে যাবে? আর শেষ পর্যন্ত রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত পড়বে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা

প্রথমে আসা যাক বর্তমান কাজের অগ্রগতিতে। প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ঢোকানোর কাজ গত মে মাসেই শেষ হয়েছে। এখন চলছে জটিল সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা। প্রথম ধাপে ২ হাজার ৪৬টি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৯০টি পরীক্ষায় পার পেয়ে গেছে রূপপুর। এখন দ্বিতীয় ধাপের শেষ ১৮টি অতি সংবেদনশীল পরীক্ষা বাকি। এসব পরীক্ষা শেষ হলেই চুল্লিতে শুরু হবে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বিক্রিয়া, উৎপন্ন তাপ থেকে বাষ্প তৈরি করে ঘোরানো হবে বিশাল সব টারবাইন, আর তাতেই তৈরি হবে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ।

কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা করলেও বাস্তবতা বলছে—টানা ৭ থেকে ৮ মাস চলতে পারে এই পরীক্ষামূলক সরবরাহ। কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তাড়াহুড়ো মানেই বড় বিপদ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি ও অনুমোদন ছাড়া এক কদমও সামনে এগোনোর সুযোগ নেই। তাই আগামী বছরের আগে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের পুরো ক্ষমতার বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম।

পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা

অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে, ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিয়ে বাংলাদেশ আবার কোনো বিপদে পড়বে না তো? এর উত্তর হলো, এই তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের পুরো দায়িত্ব নিচ্ছে রাশিয়া। ২০১৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবহৃত জ্বালানি রাশিয়া নিজেদের দেশে ফেরত নিয়ে যাবে। সেখানে এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় অংশ মাটির প্রায় ৪০০ মিটার নিচে পুঁতে রাখা হবে। তবে জেনে রাখা ভালো, পরমাণু জ্বালানি ব্যবহারের সাথে সাথেই তা জাহাজে তুলে দেওয়া যায় না। এটিকে আগে বিশেষ সুরক্ষায় ঠান্ডা করতে হয়। রূপপুরেই ১০ বছর পর্যন্ত এই বর্জ্য নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা আছে। পরবর্তীতে জাহাজ ভাড়া ও বাণিজ্যিক হিসাব কষে তা রাশিয়ায় পাঠানো হবে।

জ্বালানি চুক্তি কী বলছে?

রূপপুরে একটানা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে। প্রতি দেড় বছর পরপর লাগবে নতুন জ্বালানি। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই প্ল্যান্টের পুরো মেয়াদজুড়ে জ্বালানি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে রাশিয়ার টিভিএল কোম্পানির। আর প্রথম ৩ বছরের জ্বালানি রূপপুরের মূল চুক্তির মধ্যেই ধরা আছে।

আরেকটি জনপ্রিয় প্রশ্ন হলো, এখানে ব্যবহার করা ইউরেনিয়ামের দাম কত? চুক্তিতে আন্তর্জাতিক জার্নাল অনুযায়ী জ্বালানির দামের একটি নির্দিষ্ট সূত্র দেওয়া আছে। এমনকি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অবিশ্বাস্য বেড়ে গেলেও যাতে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সেজন্য চুক্তিতে দামের একটি উচ্চসীমা দেওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশ চাইলে যেকোনো সময় চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

খরচ বৃদ্ধি, দেরি ও বিদ্যুতের দাম

এবার আসি সবচেয়ে চর্চিত বিষয় প্রকল্পের খরচ ও দেরির কারণ নিয়ে। করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক ডলার সংকট ও জটিল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রূপপুরের কাজ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ঠিকাদারের সাথে চুক্তির কারণে মূল প্রকল্পের খরচ বাড়েনি, কিন্তু ডলারের দাম হু হু করে বাড়ায় দেশীয় মুদ্রায় প্রকল্পের খরচ এক ধাক্কায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুরের একটি ইউনিট সময়মতো চালু হলে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি খরচ বেঁচে যেত। তাহলে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কত হবে? প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের চূড়ান্ত দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাথে চুক্তির সময় তা ঠিক হবে। তবে প্রাথমিক বার্তা পরিষ্কার—পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে খরচ বেশি হলেও এর জ্বালানি খরচ অত্যন্ত কম। ফলে দেশের অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া বিদ্যুতের চেয়ে এর দাম বেশি হবে না।

গ্রিড সক্ষমতা ও স্পিনিং রিজার্ভের চ্যালেঞ্জ

কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই তো হবে না, তা গ্রিডে নেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের আছে তো? পাওয়ার গ্রিড পিএলসি জানাচ্ছে, রূপপুরের বিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে একটি ছোট টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যার নাম ‘স্পিনিং রিজার্ভ’। রূপপুরের মতো বিশাল প্ল্যান্ট হুট করে কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে পুরো দেশের গ্রিড যেন ব্ল্যাকআউট না হয়, সেজন্য ব্যাকআপে কিছু গ্যাসভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি রাখতে হয়। গ্যাস সংকটের কারণে এই মুহূর্তে সেই স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিত করা কিছুটা কঠিন। তবে পিডিবি বলছে, শুরুতে রূপপুর থেকে কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, তাই প্রথম দিকে কোনো বড় ঝুঁকি তৈরি হবে না।

নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের স্পষ্ট কথা—রূপপুর এখন ইতিহাসের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও জটিল ধাপে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে তাড়াহুড়ো করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করার চেয়ে শতভাগ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা বেশি জরুরি। একটু দেরি হলেও যেন সব পরীক্ষা নিখুঁতভাবে শেষ হয়।

পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত ধাপে যাত্রা শুরু হয়েছে বাংলাদেশের। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ইউরেনিয়ামের ব্যবহার। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী...
হাইকোর্টের রায়ের ১০ বছর পর এবার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার আপিল শুনানি চলছে। রোববার পেপারবুক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় সর্বোচ্চ...
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন...
আটককৃত এই ৬ বিদেশি নাগরিক তাদের ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় প্রতি সফরে অনুমোদিত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিচালিত এক বিশেষ...
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো এক বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের দৃশ্য ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
লোডিং...

এলাকার খবর