ডার্ক ওয়েবের অন্ধকার দুনিয়ায় কী এমন আছে?

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম

আচ্ছা, আমরা প্রতিদিন ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগলে যা সার্চ করি- সেটাই কি পুরো ইন্টারনেট? আপনি জানলে অবাক হবেন, আমরা প্রতিদিন ইন্টারনেটের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ ব্যবহার করি। বাকি প্রায় ৯৫ শতাংশ ইন্টারনেটের অস্তিত্ব কোনো সার্চ ইঞ্জিনেই খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি বিশাল এক আইসবার্গের মতো, যার গভীরের অন্ধকার দুনিয়াকেই আমরা সহজ ভাষায় বলি- ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব। কী আছে এখানে? আর মানুষ কেন সেখানে যায়? আর এর ভেতরটাই বা ঠিক কেমন? চলুন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা যাক। 

সারফেস, ডিপ ও ডার্ক ওয়েবের তফাত কোথায়? 

ডার্ক ওয়েব নিয়ে মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। অনেকেই ভাবেন এটা বুঝি কোনো হ্যাকারদের গোপন আস্তানা, কিংবা ম্যাট্রিক্স মুভির কোনো দৃশ্য। কিন্তু আসলেই কি তাই? ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে বুঝতে হলে সারফেস ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। 

সারফেস ওয়েব বা ক্লিয়ারনেট হলো ইন্টারনেটের সেই অংশ যেটা আমরা প্রতিদিন ক্রোম বা ফায়ারফক্সের মতো নির্দিষ্ট কোনো ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে, গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে অ্যাকসেস বা ব্যবহার করে থাকি।

অন্যদিকে, ডিপ ওয়েব হলো ইন্টারনেটের সেই অংশ, যা গুগলে সার্চ করলে পাওয়া যায় না। এই যেমন আপনার পার্সোনাল জিমেইল অ্যাকাউন্ট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মেডিক্যাল রেকর্ড বা অফিসের কনফিডেনশিয়াল ডেটা। এগুলো অ্যাকসেস করতে পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হয়, কিন্তু এর জন্য কোনো স্পেশাল সফটওয়্যারের দরকার হয় না। 

আর ডার্ক ওয়েব হলো এই ডিপ ওয়েবেরই ছোট্ট একটি অংশ, যেটা অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়। এই অন্ধকার দুনিয়ায় ঢুকতে সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে কাজ হয় না, দরকার হয় স্পেশাল কনফিগারেশন বা সফটওয়্যার।

ডার্ক ওয়েব আসলে কীভাবে কাজ করে?

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, এত গোপনীয়তা কীভাবে রক্ষা করা হয়? ডার্ক ওয়েবে ঢোকার সবচেয়ে পরিচিত মাধ্যম হলো টর বা দ্যা অনিয়ন রাউটার। এটি হলো একটি ওপেন সোর্স অ্যানোনিমিটি নেটওয়ার্ক।

আচ্ছা, এটার নাম অনিয়ন বা পেঁয়াজ কেন জানেন? কারণ পেঁয়াজের গায়ে যেমন একের পর এক খোসা বা স্তর থাকে, তেমনি এখানে আপনার ইন্টারনেটের ডেটা একাধিক লেয়ারে এনক্রিপ্টেড বা মোড়ানো থাকে। আপনি কোথা থেকে ব্রাউজ করছেন, আপনার আসল আইপি অ্যাড্রেস কী- এই তথ্যগুলো কোনো একটি একক রিলে বা সার্ভার ট্র্যাক করতে পারে না।

এখানে ওয়েবসাইটগুলোর ঠিকানা আমাদের চেনা ডট কম বা ডট নেট, কিংবা ডট ওআরজি দিয়ে শেষ হয় না। বরং এগুলোর ডোমেইন হয় ডট অনিয়ন দিয়ে, আর নামগুলো হয় লম্বা কিছু এলোমেলো অক্ষর ও সংখ্যার মিশ্রণ। আর হ্যাঁ, যেহেতু ডেটা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন লেয়ার ভেদ করে আসে, তাই ডার্ক ওয়েবে ব্রাউজ করা মানে হলো কচ্ছপের গতিতে চলা, অর্থাৎ এখানে নেভিগেশন হয় খুবই ধীরগতিতে।

ডার্ক ওয়েবে আসলে কী হয়? 

প্রশ্ন হচ্ছে, ডার্ক ওয়েব মানেই কি শুধু অপরাধ? সিনেমা বা সিরিজে যেভাবে দেখানো হয়, ব্যাপারটা সবসময় তেমন নয়। অ্যানোনিমিটি বা পরিচয় গোপন রাখার এই প্রযুক্তির কিছু বৈধ এবং খুব গুরুত্বপূর্ণ দিকও রয়েছে। যেমন: অনেক দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা বা রাজনৈতিক মতপ্রকাশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সেখানে সাংবাদিক, অধিকারকর্মী বা হুইসেলব্লোয়াররা নিজেদের জীবন ও পরিচয় বাঁচাতে এই অ্যানোনিমাস সিস্টেম ব্যবহার করেন।

বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটির জন্যও ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করা হয়। যেমন: ফেসবুক বা নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো বড় বড় মিডিয়া হাউসেরও নিজস্ব অনিয়ন সার্ভিস বা ডার্ক ওয়েব ভার্সন আছে। আবার সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চাররা চেক করেন তাদের কোম্পানির কোনো ডেটা বা পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হচ্ছে কি না।

তবে ডার্ক ওয়েবের অন্ধকার দিকটাও বিশাল। অপরাধীরা এই গোপনীয়তার সুযোগ নিয়ে অবৈধ মাদক বাজার, চুরি হওয়া ক্রেডিট কার্ড বা হ্যাকড জিমেইল অ্যাকাউন্ট কেনাবেচার মতো অপরাধ চালিয়ে যায়। একসময় সিল্ক রোড বা আলফাবেইর মতো বড় বড় ডার্ক মার্কেটপ্লেস আলোড়ন তুলেছিল, যা পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বন্ধ করে দেয়। সেখানে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেন হতো। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ব্লকচেইন ট্র্যাকিংয়ের কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সি মানেই শতভাগ নিখুঁত গোপনীয়তা নয়।

লুকিয়ে থাকা মারাত্মক ঝুঁকি

এবার আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে- আপনার কি ডার্ক ওয়েবে ঢোকা উচিত? উত্তর হলো: ভুল করেও নিজের শখের কম্পিউটারে এর ধারেকাছেও যাবেন না। ডার্ক ওয়েবে কোনো সিকিউরিটি গার্ড নেই। এখানে পদে পদে লুকিয়ে আছে বিপদ।

যেকোনো অচেনা লিংকে ক্লিক করলেই আপনার পিসিতে ঢুকে পড়তে পারে ম্যালওয়্যার, কি-লগার বা র‍্যানসমওয়্যার। হ্যাকাররা ফিশিং বা ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যে আপনার সকল পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য হ্যাক করে নিতে পারে। সামান্য ভুল কনফিগারেশন বা সেটিং বদল করলেই আপনার আসল পরিচয় লিক হয়ে যেতে পারে ডার্ক ওয়েবের অন্ধকার দুনিয়ায়।

আইনের চোখে কেবলমাত্র টর ব্যবহার করা, বা ডার্ক ওয়েবে ঢোকা কোনো অপরাধ নয়, কারণ এর অনেক আইনি ও প্রাইভেসি সেফটি ব্যবহার আছে। কিন্তু আপনি যদি সেখানে গিয়ে কোনো অবৈধ জিনিস কেনেন বা অপরাধে জড়ান, তবে দেশের প্রচলিত আইনে আপনার জেল-জরিমানা হতে পারে।

মোদ্দা কথা হলো, ডার্ক ওয়েব কোনো আলাদা ইন্টারনেট বা জাদুর দুনিয়া নয়। এটি ইন্টারনেটেরই এমন এক গোপন গলি, যা মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা করার যেমন সুযোগ দেয়, তেমনি অপরাধীদেরও স্বর্গরাজ্য বানিয়ে দেয়। আমাদের সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিদিনের কাজ চালানোর মতো চমৎকার সব সার্ভিস ডিপ ওয়েবেই রয়েছে। তাই ডার্ক ওয়েবের এই অন্ধকার দুনিয়া থেকে শতহাত দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এআই-নির্ভর গ্লোবাল প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন স্মার্টফোন ‘টেকনো স্পার্ক ৫০সি’। দৈনন্দিন স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির...
আইফোন ডুও দেখেই যদি মনে হয়—‘এই ফোনটা তো নিতেই হবে।’ তাহলে একটু থামুন। কারণ দেখতে যতই সুন্দর হোক, এই ফোন কেনার পর এমন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন, যেগুলো জানার পর ২,০০০ ডলার খরচ করার...
আন্তর্জাতিক পেমেন্টের জটিলতা দূর করে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য বিশ্বমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবা সহজলভ্য করতে ‘রবি এআই স্পেস’ নামে একটি অল-ইন-ওয়ান এআই হাব চালু করেছে টেলিকম অপারেটর রবি...
বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি ইভেন্ট নিয়ে হাজির হচ্ছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। বাংলাদেশ সময় আজ ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অ্যাপলপ্রেমীদের...
নাটোরে নারী সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আক্তার হোসেন নামে এক যুবককে মারধরের অভিযোগে উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের দুই কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার বাঁশিলা গ্রাম থেকে তাদের...
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যশোরের সনাতন পল্লীর ২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ভিডিওটি মিথ্যা ও বানোয়াট। ‎বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন...
গুম প্রতিরোধ ও সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন আইন করে নাগরিকের অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি'র মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে...
স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় যে শিশুটির চোখে থাকে রঙিন স্বপ্ন, সেই শিশুটিই হঠাৎ করে পথ হারিয়ে ফেলছে কোথায়? যে বয়সে তার হাতে খাতা-কলম থাকার কথা, সে বয়সে সে কীভাবে যেন হারিয়ে যাচ্ছে কঠিন কোনো বাস্তবতার...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর