আসছে নতুন ৫ ডিজিটাল ব্যাংক, কারা পাবেন সুবিধা?

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ৫টি ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল ব্যাংক আসলে কী? কেনই বা নতুন করে এতগুলো ডিজিটাল ব্যাংক? আর সাধারণ ব্যাংকের সঙ্গে এর পার্থক্যই বা কোথায়? চলুন, সহজ করে জেনে নেওয়া যাক।

নতুন ডিজিটাল ব্যাংক
নতুন করে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল ব্যাংকগুলো হলো—বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক। বিকাশের শেয়ারধারীরা বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা। নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের সঙ্গে আছে বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ। বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা। ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। আর কড়ি ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা এসিআই, স্কয়ার ও ট্রান্সকমসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

ব্যাংকগুলো কি এখনই চালু হবে?
প্রশ্ন হলো, ব্যাংকগুলো কি এখনই চালু হবে? না। চূড়ান্ত লাইসেন্স এখনো দেওয়া হয়নি। তাই এখনই তারা ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করতে পারবে না।

প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই দেবে। সহজ করে বললে, এটা হলো ব্যাংক চালুর জন্য প্রাথমিক অনুমতি। তবে এই অনুমতি পেলেই ব্যাংক চালু করা যাবে না। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো পূরণ করতে পারলেই মিলবে চূড়ান্ত লাইসেন্স।

৩০০ কোটি টাকা মূলধন
সবচেয়ে বড় শর্তগুলোর একটি হলো মূলধন। প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন দিতে হবে। অর্থাৎ শুধু টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না। মূলধন বাস্তবে পরিশোধ করতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ১২৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়।

ছয় মাসের পরীক্ষা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চূড়ান্ত লাইসেন্স শুরুতেই মিলবে না। প্রথমে ব্যাংককে ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালাতে হবে। এই সময়ে তাদের কার্যক্রম কেমন হয়, তা দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সফল হলে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার পথ খুলবে।

ডিজিটাল ব্যাংকের শুরু কবে?
বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। ওই বছরের জুনে আবেদন চাওয়া হলে ৫২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালে আবার আবেদন নেওয়া হয়। তখন ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। দুই দফা আবেদন থেকে সব মিলিয়ে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হলো।

ডিজিটাল ব্যাংক আসলে কেমন?
নামেই এর উত্তর আছে। এখানে ব্যাংকের কাজ হবে মূলত অনলাইনে। থাকবে না সাধারণ ব্যাংকের মতো শাখার বিশাল নেটওয়ার্ক। অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা জমা রাখা, লেনদেন, বিল দেওয়া কিংবা ঋণের আবেদন—এসব কাজ করা যাবে মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। অর্থাৎ ব্যাংকে যেতে হবে না। বলা ভালো— ব্যাংকটাই যাবে আপনার মোবাইলে!

এটা কি বিকাশ বা নগদের মতো?
এক কথায় বললে, পুরোপুরি বিকাশ বা নগদের মতো নয়। বিকাশ, নগদ বা রকেট হলো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস। ডিজিটাল ব্যাংক হবে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক। তবে এর সেবার বড় অংশ থাকবে ডিজিটাল মাধ্যমে। এতে ভার্চ্যুয়াল কার্ড, কিউআর কোডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সুবিধা থাকবে।

কারা বেশি সুবিধা পাবেন?
বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক মানুষের জন্য ডিজিটাল ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ এসব ব্যাংক কুটির শিল্প, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণ দিতে পারবে। ঋণ দেওয়ার সময় এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ঠিক করা হতে পারে—কারা ঋণ পাবেন। এ ক্ষেত্রে কারও আয়, লেনদেনসহ বিভিন্ন তথ্য কম্পিউটার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে অনেকের জন্য জামানত ছাড়াই ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এর একটি ঝুঁকিও আছে। যাঁদের আর্থিক লেনদেনের তথ্য কম, বা যাঁদের তথ্য ঠিকভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় নেই, তাঁরা এআইয়ের এই মূল্যায়নে পিছিয়ে পড়তে পারেন। তবে ডিজিটাল ব্যাংক বড় বা মাঝারি শিল্পে ঋণ দিতে পারবে না। এতে ঋণপত্র বা এলসি খোলার সুযোগও থাকবে না।

ডিজিটাল ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংকিং সেবা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে এমন মানুষদের কাছে, যাঁদের কাছে প্রচলিত ব্যাংকের শাখা পৌঁছানো কঠিন বা ব্যয়বহুল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষায়, ডিজিটাল ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকের বিকল্প নয়। বরং এটি হবে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিপূরক। আর এভাবেই বাংলাদেশে ব্যাংকিংয়ের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার পথে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম পরিচিত একটি নাম। কিন্তু হঠাৎ করেই খবর এল, দেশের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য রিটেইল ব্যাংকিং গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটি। এর আগে...
এই রিজার্ভ মূলত কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থাকা ডলার, ইউরোসহ বিদেশি মুদ্রা এবং সোনা, রুপার মতো সম্পদের সমষ্টি।
বাংলাদেশে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে খরচ। নগদ লেনদেন করতে গিয়ে টাকা ছাপানো থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত–প্রতিবছর অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। তাই নগদবিহীন...
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, একীভূত হওয়া কোনো ব্যাংকের কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হবে না। একই সঙ্গে কোনো গ্রাহক তার আমানত হারাবেন না। বর্তমান আইনে শুধু ব্যাংক অবসায়ন হলে...
সদ্য সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট)...
১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও, বিক্রি হচ্ছে ২১০০ থেকে ২২০০ টাকায়। আবার, বাড়তি দামেও পাচ্ছেন না অনেক ভোক্তা। বিক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন...
জাতিসংঘ অধিবেশনে কূটনৈতিক ব্যস্ততা শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের শেষ দিনেও তিনি বৈঠক করেছেন কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতিসংঘের মানবাধিকার...
কয়েকদিনের মাথায় আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে পরিশোধন ও সরবরাহ কোম্পানিগুলো। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে এরই মধ্যে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে তারা। খুচরা বিক্রেতাদের...
লোডিং...
পঠিতনির্বাচিত

এলাকার খবর