বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় সিদ্ধান্ত, বিদ্যুৎ–গ্যাস বিলের জন্য মিলবে ঋণ!

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

হঠাৎ মাঝরাতে মোবাইলের ব্যালেন্স শেষ? কিংবা মাসের শেষে পকেটে টান, অথচ বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল দেওয়ার শেষ তারিখ আজই? এই জরুরি পরিস্থিতিতে আর কোনো চিন্তা নেই! কারণ, এবার সরাসরি আপনার ব্যাংকই আপনাকে তাৎক্ষণিক ধার বা ঋণ দেবে। দেশে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে এবং জরুরি প্রয়োজনে মানুষের হাতের কাছে ডিজিটাল ঋণ পৌঁছে দিতে ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ই-পেমেন্ট ক্রেডিট। এর আওতায় আপনি ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন—তা-ও কোনো প্রকার ঝামেলা বা কাগজপত্রের স্বাক্ষর ছাড়াই।

ই-পেমেন্ট ক্রেডিট কী?

শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক, এই ই-পেমেন্ট ক্রেডিট ব্যবস্থাটি আসলে কীভাবে কাজ করবে? সহজ কথায়, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নতুন নীতিমালা, যার মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যাংকিং বা অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই ছোট অঙ্কের স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়া যাবে। তবে মনে রাখবেন, এই ঋণের টাকা কিন্তু আপনি ক্যাশ তুলে পকেটে ভরতে পারবেন না, এমনকি আপনার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বা বিকাশ/রকেটের মতো এমএফএস ওয়ালেটেও জমা করতে পারবেন না।

তাহলে এই টাকা দিয়ে কী করা যাবে? অনুমোদিত এই ঋণের অর্থ সরাসরি ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতাকে পরিশোধ করতে হবে। যেমন: বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ সব ধরনের ইউটিলিটি বিল পরিশোধে; মোবাইল ফোনে রিচার্জ করতে; স্কুল-কলেজের ফি ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে; বাস, ট্রেন বা বিমানের টিকিট কাটা ও ভ্রমণ ব্যয়ে এবং কর, সরকারি সেবার ফি এবং বিমার প্রিমিয়াম দিতে।

ঋণ নেওয়ার নিয়ম

এই ঋণ পেতে আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে কোনো লাইনে দাঁড়াতে হবে না কিংবা কোনো কাগজে স্বাক্ষরও করতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে। ব্যাংকগুলো আপনার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করবে এবং ডিজিটাল সম্মতির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ঋণ অনুমোদন দেবে। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি এবং দুই স্তরের সিকিউরিটি ভেরিফিকেশন ব্যবহার করা হবে। এই সেবাটি নির্বিঘ্নে আপনার কাছে পৌঁছে দিতে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং ফিনটেক কোম্পানিগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করবে।

কোনো সুদ নেই, শুধু সার্ভিস ফি

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এই ঋণে সুদ বা ইন্টারেস্ট কত দেওয়া লাগবে? এখানেই বাংলাদেশ ব্যাংক সবচেয়ে বড় খবরটি দিয়েছে। এই ঋণে কোনো ধরনের সুদ বা প্রসেসিং ফি প্রযোজ্য হবে না। নির্ধারিত সময়ের আগে ঋণ শোধ করে দিলে কোনো বাড়তি প্রসেসিং বা আর্লি সেটেলমেন্ট ফি-ও নেওয়া যাবে না। ব্যাংকগুলো শুধু নির্দিষ্ট মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সামান্য সার্ভিস ফি নিতে পারবে। পরিশোধের মেয়াদ হবে ৩টি। ৭ দিন, ১৫ দিন এবং ৩০ দিন।

চলুন সার্ভিস ফি-র হিসাবটাও দেখে নিই। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা ঋণে ৭ দিনের জন্য ফি মাত্র ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা। ৫০১ থেকে ১,০০০ টাকা ঋণে ৩০ দিনের মেয়াদে সর্বোচ্চ সেবা ফি ১৫ টাকা। ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণে ৩০ দিনের জন্য ফি ৫০ টাকা। ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা ঋণে ৭ দিনের জন্য ফি ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের মেয়াদে সর্বোচ্চ ফি ১৩০ টাকা। অর্থাৎ আপনি যদি ৩০ দিনের মধ্যে টাকা শোধ করে দেন, তবে বাড়াত কোনো জরিমানা বা সুদ দিতে হবে না।

সময়মতো ঋণ শোধ না করলে কী হবে?

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ শোধ করতে না পারেন, তবে কী হবে? খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে ব্যাংক আপনার ওপর জরিমানা আরোপ করতে পারবে। তবে সেই জরিমানার পরিমাণও ইচ্ছেমতো নির্ধারণ করা যাবে না। এটি দৈনিক সেবা ফি-র হারের বেশি হতে পারবে না। তাই জরিমানা এড়াতে নির্ধারিত ৭, ১৫ বা ৩০ দিনের মধ্যেই ঋণের টাকা পরিশোধ করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

কবে চালু হচ্ছে?

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সর্বসাধারণের মতামত ও পরামর্শের জন্য এই খসড়া নীতিমালাটি প্রকাশ করেছে। অংশীজনদের দেওয়া মতামত পর্যালোচনা করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। রোববার এই ই-পেমেন্ট ক্রেডিট সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। তবে শুরুতেই কিন্তু সবাই এটি বাণিজ্যিকভাবে পাবেন না। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৬ মাস পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে পরিচালনা করবে ব্যাংকগুলো। পাইলট প্রজেক্ট সফল হলে এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন মিললে এটি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ৫টি ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল ব্যাংক আসলে কী? কেনই বা নতুন করে এতগুলো ডিজিটাল ব্যাংক? আর সাধারণ ব্যাংকের সঙ্গে এর পার্থক্যই বা কোথায়? চলুন,...
বাংলাদেশে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে খরচ। নগদ লেনদেন করতে গিয়ে টাকা ছাপানো থেকে শুরু করে সরবরাহ পর্যন্ত–প্রতিবছর অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। তাই নগদবিহীন...
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, একীভূত হওয়া কোনো ব্যাংকের কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হবে না। একই সঙ্গে কোনো গ্রাহক তার আমানত হারাবেন না। বর্তমান আইনে শুধু ব্যাংক অবসায়ন হলে...
ঢাকা, গাজীপুরের পর পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জেও। মঙ্গলবার সেখানে দুটি পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন কয়েকজন। গাজীপুরে কয়েক জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। নাওজোড়ে সংঘর্ষ হয়েছে...
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যেই গঠিত মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি–বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। আজ মঙ্গলবার রাতে...
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার অভিযোগ, এসআইআরের বিরোধিতা করে কংগ্রেস, বাংলাদেশি...
লোডিং...
```html ```
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর