পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় খাগড়াছড়ির সদর, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও মাটিরাঙ্গাসহ ৯ উপজেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানির স্রোতে কার্পেটিং ভেসে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে যান চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পরেছে। এ ছাড়া এইচবিবি রাস্তা থেকে ইট উঠে যাওয়ায় অনেক সড়ক বিলীন হওয়ার পথে । সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটায় ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দীঘিনালা কবাখালি ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মো. কাউসার আজিজি বলে, ‘আমাদের এলাকায় আগস্ট মাসে দুই দফায় বন্যা হয়েছে। সড়ক ভেঙে গেছে। এখন যাতায়াত বন্ধ। বেশিরভাগ সড়কের কার্পেটিং ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও বড় গর্ত হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে। গাড়ি নিয়ে যেতে পারছি না। সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।’
দীঘিনালায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় কার্পেটিং ও এইচবিবি সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়কে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুনুর রশীদ।
ইউএনও বলেন, খাগড়াছড়ি সদর থেকে অন্যান্য উপজেলায় সবশেষ বন্যায় গ্রামীণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে সড়কগুলো ক্ষতি নিরূপণ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত সময়ের ভেঙে যাওয়া সড়ক মেরামত তা যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতে অর্থ বরাদ্দ পেলেও কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালার এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক। এই কর্মকর্তা বলেন, এক উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। দুইটি সড়কে যান চলাচলের অনুপোযোগী হয়েছে। বন্যায় ১১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ক্ষতি নিরূপণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করব।’
উল্লেখ্য, বন্যায় খাগড়াছড়ি পুরো জেলায় ১০৭ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক, ১৪টি কালভার্ট ও ৩টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



