টানা বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। ফলে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলার দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে মেরুং পাড়া, সোবাহানপুর, চিটাইগ্যাংয়া পাড়াসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মেরুং ও কবাখালি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, ‘গত রাতে পানি অনেক বেড়েছিল। সকালে কিছুটা কমেছিল। তবে বৃষ্টি এখন আবার বেড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লুৎফর ফয়সাল জানান, ‘লংগদু যাওয়ার জন্য এসেছি। সড়কের কয়েকটি জায়গায় পানি উঠেছে। হেডকোয়ার্টার এলাকায় প্রচুর পানি থাকায় নৌকা দিয়ে পার হতে হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টায় মনে হচ্ছে পানি বাড়ছে।’
দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুজন চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘দুটি ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৫৫টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে মেরুংয়ে ৩৪ পরিবার এবং কবাখালি ইউনিয়নে ২১ পরিবার। তাদেরকে রান্না করে খাবার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।’
খাগড়াছড়ি পৌর শহরের শালবন, কুমিল্লা টিলা ও সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে বাসিন্দারা। পাহাড় ধসের শঙ্কায় রয়েছে সাড়ে তিন হাজার পরিবার। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে আশ্রয়ে অবস্থান নিতে বলেছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা প্রশাসন। খাগড়াছড়ি জেলা সদরে চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপুর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যেহেতু টানা বৃষ্টি হচ্ছে পাহাড় ধসের শঙ্কা বেশি। পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেছে। কিন্ত বারবার অনুরোধ করার পরও তারা বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে না। আশ্রয়কেন্দ্রে আমরা গরম খাবার দিচ্ছি। খাবার নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে না।’



