বান্দরবানের রুমা উপজেলার কেওক্রাডং সংলগ্ন দুর্গম সুংসুয়াং পাড়ার পিছিয়ে পড়া বম জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব অর্থায়নে ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি আধুনিক 'ইকো রিসোর্ট'।
গতকাল শনিবার সুংসুয়াং পাড়ায় এই রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
বাস্তুচ্যুত বম পরিবারের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে কুকি ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রুমা উপজেলার অনেক বম পরিবার ভারতের মিজোরাম এবং সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। সেনাবাহিনীর সফল অভিযানের ফলে বর্তমানে ওই এলাকায় কেএনএ-র আধিপত্য হ্রাস পেয়েছে এবং সশস্ত্র সদস্যদের অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন।
সেনাবাহিনীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত ২০২টি পরিবারের মোট ৫০৩ জন সদস্য নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন। এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসনের জন্য সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
ইকো রিসোর্ট নির্মাণ
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন সুংসুয়াং পাড়াকে পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তুলতে এই ইকো রিসোর্ট প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অর্থায়নে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নির্মাণকাজে স্থানীয়দের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন 'দি ম্যাজেস্টিক টাইগার্স' (১৬ ই বেঙ্গল)-এর সদস্যরা।
উল্লেখ্য, এই রিসোর্টের পূর্ণ মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় বম জনগোষ্ঠীর হাতে। রিসোর্ট থেকে অর্জিত আয়ের সবটুকু সুংসুয়াং পাড়াবাসীর শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান বলেন, পাহাড়ে সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে সেনাবাহিনীর এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। ইকো রিসোর্টটি চালু হলে স্থানীয়দের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন 'দি ম্যাজেস্টিক টাইগার্স'-এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম, পিএসসি-সহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


