কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে শিশু ও নারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। সকাল পৌণে সাতটার দিকে ওই রিসোর্টে আগুন লাগে। নিহতরা সবাই পর্যটক এবং ৬ জন একই পরিবারের সদস্য। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চারজনকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়।
শনিবারের সকাল। চারপাশ তখনও নীরব। কক্সবাজারের ইনানি এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঘুড়তে আসা পর্যটকরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই সব ওলটপালট করে দেয় ভয়াবহ আগুন।
শুরুতে রিসোর্টকর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এসি ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। যে রিসোর্টে কিছুক্ষণ আগেও ছিল শান্ত, সেখানে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয় ছোটাছুটি।
পরে ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একে একে উদ্ধার হয় ১০টি মরদেহ। এদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এরা হলেন, ঢাকার বনশ্রী এলাকা ইশরাত জাহান মালিহা ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, গত জুন মাসেই ৩ তলাবিশিষ্ট ওই রিসোর্টটিকে অগ্নি নির্বাপনী ব্যবস্থা উন্নত করতে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস। গত ৪ মাস সর্তকতা উপেক্ষা করে পরিচালিত হচ্ছিল রিসোর্টটি। ফায়ার সার্ভিস জানায় কাঠের রিসোর্ট হওয়ার কারণে আগুণ ধরার পর সেটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। রিসোর্টটি থেকে সবচেয়ে কাছের ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। সরকার নতুন করে আরও ১৩০টি ফায়ার স্টেশন করার পরিকল্পনা করেছে। এখানে উখিয়াতে নতুন একটি ফায়ার স্টেশন করার পরিকল্পনা আছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে রিসোর্ট মালিক পলাতক।
কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে মোট রুম ছিল ৯টি। অগ্নিকাণ্ডের সময় এখানে ছিলেন ২৭ জন পর্যটক। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না।


