স্বাধীনভাবে বাঁচতে ও উপার্জনের আশায় বাড়ি ছেড়েছিল কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী। বাবার মোবাইল ফোন বিক্রি করে পাওয়া চার হাজার টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় যায় তারা। পরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়িতে যাওয়ার পথে সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর সকালে স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হলেও ক্লাসে উপস্থিত হয়নি ওই চার ছাত্রী। সেদিন বিকেলে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। পাশাপাশি নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্য দেশের বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়। পরে ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থীর বয়স ৮ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে তিনজন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা জানায়, পড়াশোনার প্রতি তাদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং টিকটকে ভিডিও আপলোড করত। এসব মাধ্যমে অপরিচিত কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে। তবে ওই তরুণদের প্রকৃত নাম-পরিচয় তারা জানত না।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয় থেকে প্রভাবিত হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এ সময় বাড়ি থেকে একটি ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার সঙ্গে নেয় শিক্ষার্থীরা।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটে মোবাইল ফোনটি চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। ওই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় যায়। সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু করতে না পেরে সেদিনই এক শিক্ষার্থীর দাদাবাড়ি চুনারুঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা বিক্রি করা মোবাইল ফোন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে চার শিক্ষার্থীকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। তাদের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


