মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পুলিশের সামনে ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাতজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ বুধবার ভোরে ঢাকার সবুজবাগ ও হাজারীবাগ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের আবুল কালাম (৪৫), আবদুল গফুর (৪১), মিলন মিয়া (৩২), জুবায়ের হোসেন (২২), মোখলেস মিয়া (৩৮), আবুল হোসেন (৪৮) এবং আওয়াল হোসেন (২৩)।
বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুজন সরকার।
এ ঘটনায় নিহত কুদ্দুস (৫২) উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামের মৃত মিনাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় সিরাজপুর বাজারে কাঠের ব্যবসা করতেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল কালাম এবং সিরাজপুর হাটের সাবেক ইজারাদার বাদশা মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার আটিপাড়া কবরস্থানের পাশে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের লোকজন আহত হন।
খবর পেয়ে স্থানীয় শান্তিপুর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। এরপর সকাল ১০টার দিকে আটিপাড়া গ্রামে পুলিশের সামনেই আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আবুল কালামের লোকজন আবদুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিনই রাত ১০টার দিকে কুদ্দুস মারা যান।
এ ঘটনায় পরের দিন ৪ ফেব্রুয়ারি নিহত কুদ্দুসের স্ত্রী শিউলী বেগম বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেন, ‘আজ ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকার সবুজবাগ ও হাজারীবাগ এলাকা থেকে ওই সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
