ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে গতকাল বুধবার পদ্মা নদীতে নিখোঁজ বাবা শাহাদাত খানের (৫৫) মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ডুবে যাওয়ার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
শাহাদাত খানের মরদেহ গোপালপুর ঘাট থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ভাসমান অবস্থায় পায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। মরদেহটি উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে সংশ্লিষ্টরা।
নিহত শাহাদাত খানের বাড়ি চরভদ্রাসন ইউনিয়নের বাদুল্লা মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি।
চরভদ্রাসন ফায়ার স্টেশনের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মুর্তজা ফকির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার দিন আমরা নদীতে ডুব দিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সেদিন অপারেশন স্থগিত করা হয়। আজ ঈদুল ফিতরের নামাজের পর আবারও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে ভেসে থাকা নিহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছি।’
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল বিন করিম বলেন, ‘নদীতে গোসল করতে নেমে একজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়। ঘটনার পরদিন ফায়ার সার্ভিস মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের বিষয়ে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন আমার কাছে আসে। তাঁদের কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
শাহাদাত খান ঢাকায় আড়ং-এ প্রডিউসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ছোট ছেলে সিয়ামকে নিয়ে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামেন তিনি। হঠাৎ স্রোতে সিয়াম ভেসে যেতে থাকলে তাকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন বাবা শাহাদাত। তিনি সিয়ামকে নদীর চরে উঠাতে পারলেও নিজে পানিতে তলিয়ে যান।



