রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে আয়েশার স্বামী রাব্বীকেও। তবে হত্যার মোটিভ কী তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত সোমবার মোহাম্মদপুর মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর সন্দেহের তীর যায় পাঁচ দিন আগে ওই বাসায় কাজে আসা গৃহকর্মী আয়েশাকে। সিসি ফুটেজে দেখা যায়, জোড়া খুনের পর তিনি স্কুল ড্রেস পরে ওই বাসায় থেকে আয়েশা বের হয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ বলছে, আয়েশাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে তার চেহারা দেখা না যাওয়ায় সমস্যায় পড়ে পুলিশ। তবে তার মুখে পোড়া দাগ আছে– এমন তথ্যে শুরু হয় তদন্ত।
ঢাকা মেট্রপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের তেজগাঁও জোনের এডিসি জুয়েল রানা জানান, বুধবার ঝালকাঠির নলছিটি আয়েশার দাদা শ্বশুরের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুনের পর আয়েশা তার স্বামী রাব্বীকে হত্যার বিষয়ে জানালে তারা ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। আয়েশাকে পালাতে সহায়তা করেন স্বামী রাব্বী।
জোড়া খুনের ৬ মাস আগে মোহাম্মদপুরের বছিলার একটি বাসায় চুরি করেছিলেন আয়েশা। সে সময় তার ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে আয়েশার খোঁজ শুরু করে পুলিশ।
এডিসি জুয়েল রানা বলেন, কেন এমন নৃশংসতা, হত্যার কারণ কী, এমন প্রশ্নে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই জোড়া খুনের রহস্য জানা যাবে।
মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে স্কুলপড়ুয়া নাফিসাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই জোড়া হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।


মা-মেয়ে খুনে গৃহকর্মীকে ঘিরে সন্দেহ, বোরকা পরে ঢুকে বের হন স্কুল ড্রেসে
