ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হ্যাপী বেগমকে (১৮) পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী রাকিব বেপারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্ত্রীর গর্ভে জীবিত শিশুর মৃত্যুর অপরাধেও ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি রাকিব বেপারী সদর উপজেলার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের লুৎফর বেপারীর ছেলে। নিহত হ্যাপী বেগম একই গ্রামের হুমায়ন শেখের মেয়ে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে হ্যাপি বেগমকে নির্যাতন করে আসছিলেন তাঁর স্বামী রাকিব। যৌতুকের ৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট রাতে হ্যাপি বেগমকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর রাকিব ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যান। পরদিন ৬ আগস্ট হ্যাপি বেগমের বাবা হুমায়ন শেখ বাদী হয়ে রাকিবসহ ৫ জনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্র পক্ষের কৌশলী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুইয়া জানানা, মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি রাকিবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডেরসহ আদেশ দেন আদালত। একই সাথে হ্যাপি বেগমের গর্ভের সন্তানের মৃত্যু ঘটানোর জন্য স্বামী রাকিবকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালতের বিচারক।



