রাজধানীর হাজারীবাগে পূর্ববিরোধের জেরে আলী জামান (৫৫) নামের বিএনপির এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোহসীন নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।
আহত আলী জামান হাজারীবাগ থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক। তিনি হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় গাড়ির পার্টসের দোকান পরিচালনা করেন।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে হাজারীবাগের কুলাল মহল এলাকার হাজী ইয়াসিন বানু স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত আলী জামানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি বাসায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
হাজারীবাগ থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলাল মহলের হাজী ইয়াসিন বানু স্কুলের সামনে বিএনপি নেতা সেলিমের ছেলে রিফাত মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সামারি ট্রায়ালে তার সাজা হয়। বুধবার সাজা শেষে তিনি জামিনে বের হয়ে আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিএনপি নেতা জনি সেলিমের ছেলের পক্ষ নিয়ে বাবলুর লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে বাবলুর লোকজনসহ কয়েকজন বিএনপি নেতাকে বহনকারী একটি ম্যাটাডোরে যাওয়ার সময় আলী জামান ও মোহসীনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে দুজনই আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত মোহসীন পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। অন্যদিকে গুরুতর আহত আলী জামানকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখে।
তবে আলী জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
আহত আলী জামানের রাজনৈতিক সহকর্মী ফারশিদুল রহমান সাদ বলেন, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত রিপন, জনি ও বাবুলসহ কয়েকজন বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে কুলাল মহলে আলী জামানের নিজ গাড়ির পার্টসের দোকানের সামনে অতর্কিত হামলা চালান।
ফারশিদুল রহমান সাদের অভিযোগ, রিপন, জনি, বাবুল, শামীম, জসিম ও সাহাবুদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জন হামলায় অংশ নেন। তারা ধারালো অস্ত্র, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলী জামানের ওপর হামলা চালান। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আলী জামানের বাসা হাজারীবাগের কালুনগর এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি হাজারীবাগ থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক হামলা ও আহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে আলী জামান নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন। তিনি বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রাত দেড়টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয় এবং জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আলী জামান নামে একজনকে ঘুষি মারায় তার চোখে-মুখে কিছু জায়গা কেটে গেছে এবং তিনি আহত হয়েছেন। গতকাল রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



