বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে ভারতে যাওয়া ২০ বাংলাদেশি শিশুকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ। আজ বুধবার বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাদের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা শিশুদের বাড়ি বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল ও যশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এদের মধ্যে ১৩ জন মেয়ে শিশু ও ৭ জন ছেলে শিশু রয়েছে। এরা অধিকাংশই মা-বাবার সাথে জেলে ছিল। দুই বছর জেলে থাকার পর তাদের ছাড়া হলো। তবে সাজার মেয়াদ শেষ না হওয়ায় এই শিশুদের মা-বাবারা ভারতের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছে।
ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট ছাড়াই সীমান্তের অবৈধ পথে মা-বাবার সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যায় এই শিশুরা। সেখানে তাদের মা-বাবারা বাসা বাড়িতে এবং মাঠে কাজ করতেন। তারা ২০২৪ সালের প্রথম দিকে দালালের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত পথে মা-বাবার সাথে ভারতে যান। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে দিলে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কারাগারে পাঠানো হয়। সাজা শেষে ভারতের একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার আবেদনে পশ্চিমবঙ্গের কিশোলয়া, সুরকন্যাসহ ৭টি শেল্টার হোমে রাখা হয় তাদের।
ভারতের কলকাতা উপ হাইকমিশন থেকে ইস্যুকৃত বিশেষ ট্রাভেল পারমিট এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) এক্সিট পারমিটের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। উভয় দেশের বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ হস্তান্তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী বলেন, ‘দেশে ফেরত আসা শিশুদের ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য সন্ধ্যায় তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যশোরের ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ মহিলা আইনজীবী সমিতি ও যশোর রাইটস নামের ৩টি মানবাধিকার সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে শিশুদের। তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবেন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা।



