বৃষ্টির সঙ্গে মাত্র ২ মিনিটের ঝড়ে সিরাজগঞ্জে চারটি গ্রাম তছনছ হয়ে গেছে। ঝড়ের কারণে রাস্তায় গাছপালা পড়ে চলাচলসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে অর্ধশতাধিক ঘড়বাড়ি।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা, ইটালি, চিলগাছা ও চর-চিলগাছা গ্রামে এ ঘটনা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, ঝড়ের পরে লোকজন তাদের আসবাবপত্র বিভিন্ন স্থান থেকে কুড়িয়ে আনতে দেখা গেছে। অনেকে গাছাপালা সরিয়ে রাস্তা সচল করার চেষ্টা করছে। মাত্র ২ মিনিটের ঝড়ে ৪ গ্রামের মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকেরই বসতঘর ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে।
রতনকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ দুপুর ২টার পর গ্রামগুলোর এক পাশ থেকে কালো মেঘের মতো ভেসে আসতে থাকে। মাত্র ২ মিনিটের মধ্যে ৪টি গ্রামের বহু বসতবাড়ির টিনের ঘর ও গাছপালা ভেঙে গেছে। কিছু কিছু ঘরবাড়ি উড়িয়ে নিয়ে গেছে। বেশ কিছু গাছপালা রাস্তার ওপরে ভেঙে পড়ে কয়েকটি গ্রামের চলাচলের রাস্তাসহ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময় ৪ গ্রামের বিভিন্ন জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ও মুরগির খামার ভেঙে গেছে।’
বাহুকা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত শামিম হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘরের মধ্যে বসে ছিলাম। হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে সংসারের সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। কোনো রকম প্রাণ রক্ষা করতে পেরেছি। ঝড়ে বসতঘর উড়ে যাওয়ায় পরিবারের লোকজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রয়েছি।’
রতনকান্দি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুবায়েল হোসেন বলেন, ‘শুধু চরচিলগাছাতেই অন্তত ৫০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএনও অফিসে সংবাদ পাঠানো হয়েছে।’
রতনকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডা. মেরাজ হোসেন মিসবাহ বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বলেন, ‘আমরা তালিকা তৈরি করছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আছে। তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঢেউটিনসহ অন্যান্য সহযোগিতার জন্য সুপারিশ করব।’
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা পরিদর্শনে এসেছি, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’



