কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদে দিয়ে ভেসে আসা মৃত গন্ডারটি কঙ্কাল সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এ বিষয়ে জানান যমুনা সেতু আঞ্চলিক জাদুঘরের কিউরেটর জুয়েল রানা।
পোস্টে জুয়েল রানা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ থেকে অনেক বছর আগেই গন্ডার বিলুপ্ত হয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে দেখতে পেলাম একটি গন্ডার মৃত অবস্থায় নদীর চরে পড়ে আছে। সাথে সাথে বন বিভাগকে জানাই, আমরা নমুনাটি যমুনা সেতু আঞ্চলিক জাদুঘরে সংরক্ষণ করতে চাই। অনুমতি পেয়ে জাদুঘরের টিম নিয়ে রওনা হই কুড়িগ্রাম জেলার ভূরঙ্গামারী থানার তিলাই ইউনিয়নের এক দূর্গম চড়াঞ্চলে। উপজেলায় প্রশাসন, ডিএফও রংপুর প্রতিনিধি, পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা শেরপুর, বগুড়ার সেচ্ছাসেবেক টিম ও স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেখানে আমরা শিং বিহীন একটি মৃত অর্ধগলিত গন্ডার নদীর পলি মাটির কাঁদায় দেখতে পাই।’
জুয়েল রানা আরও লিখেছেন, ‘চামড়া ভালো না থাকায় নমুনাটি স্টাফিং করার প্রক্রিয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আমরা কঙ্কাল সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করি। সেখানে হাড় সংগ্রহ করার পরিবেশ না থাকায় মোটা পলিথিন দিয়ে নমুনা মুড়ে মাটি দিয়ে আসি। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় চেয়ারম্যান এ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। নমুনাটি স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় রেখে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে আসি। দুই মাস পর পচন প্রক্রিয়া শেষ হলে জাদুঘর টিম নমুনাটির কঙ্কাল সংরক্ষণের কাজ শুরু করবে। সঠিক পদ্ধতিতে নমুনাটির কঙ্কাল সংরক্ষিত হলে আধুনিক শিক্ষায় ও গবেষণার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।’
এর আগে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় দুধকুমার নদের স্রোতে গন্ডারটিকে মৃত অবস্থায় প্রথমবার ভাসতে দেখা যায়। পরে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণছাট গোপালপুর গ্রামের চরে আটকে পড়ে প্রাণীটির মরদেহ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বন্যা দেখা দিয়েছে। পাহাড়ধস ও বনাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গত কয়েক দিনে দুধকুমার নদ দিয়ে কাঠের গুঁড়ি, মৃত গরু, সাপ, মাছসহ নানা প্রাণী ভেসে আসছে।



