ঠাকুরগাঁওয়ে বিতরণের সময় সার না পেয়ে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের হামলার শিকার হয়েছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাণীশংকৈল উপজেলার উমরাডাঙ্গী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কৃষি কর্মকর্তাকে প্রথমে রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, মল্লিক ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেনের তত্ত্বাবধানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতারুল ইসলামের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় তিনটি ভ্যানগাড়িতে করে ৩৩ বস্তা সার নিয়ে যাচ্ছিলেন পাঁচজন কৃষক। এতে সার নিতে আসা অন্য কৃষকেরা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। হট্টগোল বাড়তে থাকায় আকতারুল ইসলাম দুপুরের খাবারের কথা বলে ঘটনাস্থল ছাড়তে চাইলে পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম তাকে সঙ্গে নিয়ে ফের বিতরণ স্থলে আসেন। তখন উপস্থিত লোকজন আকতারুল ইসলামের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার দাঁত ভেঙে যায় এবং মাথায়ও গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ‘সকালে শান্তভাবেই সার দিচ্ছিল। পরে দেখি কয়েকজন একসঙ্গে বস্তা তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন লাইনে থাকা লোকজন চিৎকার শুরু করে। সবাই রেগে যায় কে আগে সার পেল, কে না পেল এই নিয়ে।’
স্থানীয় হোসেন আলী বলেন, ‘আমরা দেখি কৃষি কর্মকর্তারা চেষ্টা করছিল পরিস্থিতি সামাল দিতে। কিন্তু ভিড় এত বেশি, আর মানুষের রাগ এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, কেউ একজন কথা-কাটাকাটি করতে গিয়েই মারামারির বেধে যায়। তারপর মুহূর্তেই সব গরম হয়ে যায়।’
আরেক স্থানীয় মাসুদ রানা বলেন, ‘কেউ ইচ্ছা করে মারধর করবে এমন মনে হয় না। কিন্তু যে ভিড়টা তৈরি হয়েছিল, তাতে ঠেলা ধাক্কা, উত্তেজনা মিলেই পুরো ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কর্মকর্তার দাঁত ভেঙে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। আমাদের এলাকায় এখনো সারের পর্যাপ্ত সংকট রয়েছে। মূলত সারের সংকটের কারণে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সার বিতরণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আখতারুল ইসলাম নামে উপসহকারী আহত হয়েছেন। রোগীর মাথায় জখম হয়েছে, একটি দাঁত ভেঙে গেছে। আখতারুল ইসলাম বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষে ভুক্তভোগীর মতামত অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



