ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর জেলার ৬টি আসনেই জয়ী হয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। এক সময় জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তরবঙ্গের এই জেলায় এবারে দাঁড়াতেই পারেনি সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। বিএনপি'র পারফরম্যান্সও হতাশাজনক।
রংপুর-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর রায়হান সিরাজী। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট।
রংপুর-২ আসনে জয়লাভ করেছেন জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম। দাঁড়িপাল্লা নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট। আসনটিতে ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার।
রংপুর-৩ (সদর-সিটি কর্পোরেশন) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮২৭ ভোট নিয়ে জয়লাভ করেছেন। ধানের শীষের সামসুজ্জামান সামু ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। জাতীয় পার্টির হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের লাঙ্গল প্রতীকে ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
রংপুর-৪ আসনে বাজিমাত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত প্রার্থী আখতার হোসেন। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট।
রংপুর-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম রব্বানী। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তাঁর ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০৮ ভোটের বিপরীতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪১ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন। এ আসনে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০টি। আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকের সাইফুল ইসলামের শক্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থীকে। এখানে সাইফুল ইসলাম ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট পেয়েছেন।
রংপুর জেলায় হতাশ করলেও সারা দেশে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই দু'শটিরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। তবে সারা দেশে জাতীয় পার্টি এখনও নিজেদের খাতা খুলতে পারেনি।



