রমজান উপলক্ষে প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেনা হয়েছে ছোলা, খেজুরসহ নানা নিত্যপণ্য।
সারা দেশে বিক্রির জন্য নিজস্ব ডিলার ছাড়াও খোলা ট্রাকেও বিক্রি করবে সংস্থাটি। রোজায় ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে টিসিবির কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পরামর্শ ক্যাবের।
চিনি, ছোলা, ভোজ্যতেল, ডাল ও খেজুর– রমজানে এ পাঁচ পণ্যের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থির করে তোলে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এতে ভোগান্তিতে পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষ।
রাজধানীর একটি বাজারে এক ভোক্তা বলেন, ‘সরকারের কাছে আমাদের চাওয়াটা কী? দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আমরা যেন বাজারে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে বাজার করতে পারি।’
সবদিক বিবেচনায় রোজায় কর্ম পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিসিবি। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল থেকে ছোলা কেনা শেষ হয়েছে। যা গুদামজাতের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সৌদি আরব ও ইরাক থেকে আসছে খেজুর। আর সরবরাহ পাইপ লাইনে আছে ডাল, তেল ও চিনি। এসব নিত্য পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না বলে দাবি সংস্থাটির।
টিসিবির মুখপাত্র শাহাদত হোসেন বলেন, ‘ছোলা ক্রয় করেছি দুইটা দেশ থেকে। অস্ট্রেলিয়ার উৎস থেকে আমরা ৫ হাজার টন কিনেছি। আর ব্রাজিল উৎস থেকে ৫ হাজার টন আসবে। খেজুর সৌদি আরব থেকে আসবে এগারোশ টন। ইরাক থেকে আসবে ১১শ ৫ টন খেজুর। আমাদের ছোলা ও খেজুরের প্রস্তুতি সম্পন্ন। এছাড়া আমাদের ভোজ্য তেল, মশুর ডাল, চিনি– এগুলো আমরা স্থানীয় বাজার ও আন্তর্জাতিকভাবে ক্রয় সম্পন্ন করেছি।’
ভালো প্রস্তুতির সুফল যেন স্বল্প আয়ের মানুষ পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ ক্যাবের। বিশেষ করে সঠিক সময়ে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানোর তাগিদ তাদের।
ক্যাবের সহ–সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘আইনের যে বিধান যেভাবে আছে সেভাবেই যদি প্রতিপালন করা হয় তাহলে হয়তো এই যে আজকে দাম বাড়ানোর বা অতি মুনাফা লাভের যে মনোভাব– দুইটার সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। এটা এতদূর গড়াত না। সেজন্য এখনই সময় এটাকে বন্ধ করা।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রাখতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার।



