মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজার থেকে অতিরিক্ত দামে পরিশোধিত তেল কিনতে হচ্ছে। এতে চলতি মাসের ২৫ দিনে বিপিসির লোকসান ছাড়িয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। সরকারের ভর্তুকির চাপ কমাতে তেলের ব্যবহার কমানোর তাগিদ দিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বাংলাদেশ বছরে যে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, তার ৮০ ভাগই পরিশোধিত। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে গত ১ মাসে পরিশোধিত তেলের ব্যারেল ৯২ থেকে ১৯১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার থেকে বেড়ে ১১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চলতি মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত বিপিসির ভর্তুকি ছাড়িয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি গুণতে হচ্ছে ডিজেলে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে দৈনিক ১ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ কমেছে। এমন অবস্থায় অনেক দেশ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও বাংলাদেশ তা করেনি।
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে সমস্যা হয়ে গেছে। আমরা দাম বাড়াইনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভর্তুকি দিয়ে আমরা তেল সরবরাহ করে যাচ্ছি। এটি মাথায় রেখে যারা গাড়ি ব্যবহার করেন, মোটরসাইকেল চালান একটু সাশ্রয়ী হয়ে ব্যবহার করুন।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আগে দীর্ঘসময় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম ছিল। টানা ৮ বছর দেশের বাজারে তেল বিক্রিতে বড় অংকের মুনাফা করে বিপিসি। এখন দাম বাড়ালে বাজারের মূল্যস্ফীতি আরো বৃদ্ধির শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম বলেন, ‘ভর্তুকির অর্থ যোগান দিতে গেলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে এবং জীবনযাত্রা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকার সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, হোম অফিসের মতো পদক্ষেপ নিয়ে জ্বালানি খরচ কমাতে পারে কিনা সেটি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।’
জ্বালানি আমদানি স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে বাড়তি ডলারের যোগান নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ– এর মতো বহুজাতিক সংস্থা থেকে সহজ শর্তের ঋণ নেওয়ার তাগিদ পর্যবেক্ষকদের।



