ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে দেশের বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রায়ই বন্ধ থাকছে চাল কলগুলো । এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। রাইস মিল না চলায় ব্যাহত হচ্ছে সারা দেশে চালের সরবারহ। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে চালের বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
দেশের অন্যতম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে রয়েছে ৪২টি অটোমিলসহ আড়াই শতাধিক চালকল। প্রতিদিন মোকাম থেকে ঢাকা-চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যায় কয়েক শ ট্রাক চাল।
মিল মালিকরা বলছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহতের পাশাপাশি চালের গুণনগত মান কমে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে মিলের যন্ত্রাংশ।
কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, দুই–তিন ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসে–যায়। এতে মিলের যান্ত্রিক ত্রুটি হয়। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
খাজানগরের জালাল অটো রাইচ মিলের স্বত্বাধিকারী মো. শাহ-জালাল বলেন, এভাবে লোডশেডিং থাকলে সারা দেশেই খাদ্যের একটা ঘাটতি পড়ে যাবে।
এদিকে খাজানগর চালের মোকামে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিপাকে চাতাল শ্রমিক ও কর্মচারীরা। পরিবহন শ্রমিকদেরও কমেছে আয় রোজগার।
লোডশেডিং অব্যাহত থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসন বলছে, খাজানগরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম চক্রবর্তী বলেন, চালের উৎপাদন ও রপ্তানি হয় এখান থেকে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তাদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়ার।স
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওই জায়গাটাতে গুরুত্ব দিচ্ছে। কোনো জায়গায় সমস্যা হলে চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ডিজেল সরবরাহ করছি, যেন তারা জেনোরেটরের মাধ্যমে উৎপাদন চালু রাখতে পারে।
দেশের চাহিদার ২০ শতাংশ চাল আসে খাজানগর মোকাম থেকে। এসব মিলের উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।



