উচ্চ বাণিজ্য ব্যয়, ধীরগতির বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং দুর্বল অবকাঠামোর কারণে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। দ্রুত সংস্কার এবং বিনিয়োগ বাড়ানো না গেলে, সরকারের ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
আজ শনিবার রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে।
দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি হয় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে। তবে কম দক্ষতা, উচ্চ বাণিজ্য খরচ এবং দুর্বল লজিস্টিকসের কারণে বাংলাদেশ এখনো অবকাঠামোগত সক্ষমতায় পিছিয়ে আছে। যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
ঢাকা চেম্বারের আলোচনায় বলা হয়, বন্দরের লজিস্টিকস খাতের খরচ প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। অব্যবস্থাপনা ও বেশি সময় লাগার কারণে নির্ধারিত সময়ে ক্রয়াদেশ অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এতে, বাড়ছে উৎপাদন খরচ ও ভোগান্তি।
এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘মালামাল যেখানে বহন করে সেখানে অনিয়ম বেশি। এই অনিয়মের কারণে খরচ বেড়ে যায়। ওইখানে যে ট্রান্সপোর্টগুলো আছে, সেখানেও একটা সিন্ডিকেশন আছে।’
বক্তারা বলেন, দেশের রপ্তানি খাত এখনো তৈরি পোশাক শিল্পনির্ভর। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মাসে এ খাতের রপ্তানি ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। এতে নির্ভরশীলতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশ্লেষকরা।
পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘এটা আপনাকে আপনাকে গাইড করবে এবং একত্রে কাজ করার সহযোগিতা করবে। কিন্তু এই এসপিরেশনে যেতে গেলে ৭ থেকে ৮ শতাংশ গ্রোথ রেটে যেতে হবে, যেটা প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্টে জিডিপির ৩০ শতাংশ নেওয়া ছাড়া। আর এক্সপোর্টকে বর্তমান থেকে অনেক বাড়িয়ে তোলা এইটা ছাড়া সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, ‘বিশাল একটা অংশ কাজ করছে। তাদেরকে ধরে ধরে আমরা ট্রেনআপ করি। এটির মাধ্যমে আমরা তাদেরকে অ্যাক্টিভেট করি কীভাবে বেস্ট সার্ভিস, হাই কোয়ালিটি টাইমলি এবং হাই কোয়ালিটি সার্ভিসটা আমরা নিশ্চিত করতে পারি।’
এ সময়, রপ্তানি বাড়াতে দক্ষ ও সমন্বিত লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম নিশ্চিতের আহ্বান জানান আলোচকরা।



