প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ভালো থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখা গেলেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান তৈরির পথে বড় বাধা জ্বালানি সংকট ও অনিশ্চিত পরিবেশ। আজ বুধবার অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। এসময় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সংকটের দায় বর্তমান সরকারের নয়।
সাড়ে ৪ বছর ধরে চড়া মূল্যস্ফীতিতে নাকাল সাধারণ মানুষ। মজুরি হার কম থাকায় বেড়েছে দরিদ্র জনগোষ্ঠী। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় বাড়ানো হয়েছে ব্যাংক ঋণের সুদ হার। তার সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংকট বাড়িয়েছে ব্যবসার খরচ ও চ্যালেঞ্জ। গবেষকরা বলছেন, গত প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে শিল্পখাতের অবদান কমেছে। বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধিও গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর পাশাপাশি কমেছে শিল্প কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি।
সিপিডি'র সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, 'এখানে একটা...জিনিস কাজ করে অনিশ্চয়তা। প্রেডিকটেবিলিটির অভাব। তারপর এখনতো আমরা দেখছি যে জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা- এই সমস্ত কিছু মিলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত বোধ করছে না, কনফিডেন্স পাচ্ছে না।'
এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই'র প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, 'আমরা ওই বন্ধ ফ্যাক্টরি চালু করার বিপক্ষে না। কিন্তু বন্ধ ফ্যাক্টরি চালু করার আগে যে চালু ফ্যাক্টরিগুলো আছে এইগুলো যাতে কোনোভাবে বন্ধ হতে না পারে, এজন্য জ্বালানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করা দরকার।'
সিপিডি ও ইআরএফ আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাজার ও ফুটপাতে যে চাঁদাবাজি হয়, তা সরকারি কোষাগারে আনা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সরকারের আমলে টেকসই জ্বালানি নীতি প্রণয়ন না করার আর্থিক ক্ষতি নিরূপণ করা দরকার।
তিনি বলেন, 'টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি এবং সেগুলো প্রথমে সংসদ সদস্যদের জানানো হবে, এবং একইসাথে যারা স্টেকহোল্ডার (অংশীজন), বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য তাদের সাথেও আমরা আলোচনা করব।'
ব্যবসার খরচ কমাতে এনবিআর, কাস্টমস, বন্দর, লজিস্টিক ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি দুর্নীতি মুক্ত করার তাগিদ দেন আলোচকরা।



