সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সকাল ১০টা থেকে সব বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয়, চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আয়োজিত এ পরীক্ষায় এবার অংশ নিয়েছেন মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী।
এবারও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজারেরও বেশি। জানা গেছে, এবার ছাত্রের সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ, এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
লিখিত বক্তব্যে সচিব জানান, দেশজুড়ে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সচিব জানান, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার সর্বমোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় বসছেন। এবারও মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি, যা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলো হলো—
১. পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকক্ষে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে।
২. প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
৩. ৩০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য সময় ৩০ মিনিট এবং ৭০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার জন্য সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
৪. ব্যবহারিক বিষয়সংবলিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য সময় ২৫ মিনিট এবং ৫০ নম্বরের সৃজনশীল পরীক্ষার জন্য সময় ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।
৫. পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে চলবে। এমসিকিউ ও সৃজনশীল অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
৬. সকাল ১০টার পরীক্ষার ক্ষেত্রে সকাল সাড়ে ৯টায় অলিখিত উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। সকাল ১০টায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ওএমআর শিট সংগ্রহ করে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। তবে ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ সময় হবে সকাল ১০টা ২৫ মিনিট।
৭. বিকেল ২টার পরীক্ষার ক্ষেত্রে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে অলিখিত উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট বিতরণ করা হবে। বেলা ২টায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র এবং বেলা ২টা ৩০ মিনিটে ওএমআর শিট সংগ্রহ করে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে। ২৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার ক্ষেত্রে এ সময় হবে বেলা ২টা ২৫ মিনিট।
৮. প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
৯. প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছ থেকে অন্তত সাত দিন আগে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
১০. উত্তরপত্রের ওএমআর অংশে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোডসহ সব তথ্য সঠিকভাবে লিখে নির্ধারিত বৃত্ত ভরাট করতে হবে। উত্তরপত্রের মার্জিনে লেখা বা উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
১১. তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী এবং ব্যবহারিক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
১২. শুধু রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লেখিত বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে। অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না।
১৩. পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত (নন-প্রোগ্রামেবল) হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন।
১৪. শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১৫. পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থীও পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবেন না।
কন্ট্রোল রুম চালু
এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫।
এছাড়া যোগাযোগের জন্য ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ই–মেইল ঠিকানা: [email protected]।



