সালটা ছিল ২০০৯। প্রথমবারের মতো ব্যান্ড তারকা শাফিন আহমেদের সামনাসামনি বসার সুযোগ হয় আমার। সূত্রটা সাংবাদিকতা; উপলক্ষ মাইলস ব্যান্ডের তিন দশক। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ দলটির কাণ্ডারী তখন শাফিন আহমেদ ও হামিন আহমেদ।
তিন দশকপূর্তি উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যান্ডটি। সেটাই পত্রিকার পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য ব্যান্ডটির সাক্ষাৎকারের সময় নেওয়া। সেসময় মগবাজারে ব্যান্ডটির প্র্যাকটিস প্যাডে হাজির হই। সেখানে হামিন আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও ততক্ষণে এসে পৌঁছাতে পারেননি শাফিন। হামিন জানিয়ে দেন—আগে শাফিন আসুক, তারপর যত কথা!
কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারি, তাঁরা চাইছিলেন শাফিন আহমেদই কথা বলুক এবং সবাই একসঙ্গে বসে বলুক। অন্যদিকে, ঢাকার জ্যাম পাড়ি দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ পর এলেন শাফিন আহমেদ। এর আগে বহুবার কণ্ঠটা ফোনে শোনা হলেও প্রথমবার সামনাসামনি কথা চালাচালি।

শুরুতেই শাফিন জানতে চাইলেন, রেকর্ডার চালু আছে তো? ইতিবাচক প্রত্যুত্তর পাওয়ার পরই শুরু হয় আমাদের সাক্ষাৎকার পর্ব।
এখানে দুটি বিষয় আমার কাছে আলাদা মনে হয়েছে, প্রথমত মাইলসের মতো দলে শাফিনের গুরুত্ব এবং দ্বিতীয়ত, পারফেকশন।
নিঃসন্দেহে শাফিন আহমেদ শুধু মাইলস কিংবা বাংলাদেশি সংগীত নয়; বাংলা ব্যান্ড সংগীতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। মাইলস তথা শাফিনের গান শুনে কলকাতায় তৈরি হয়েছে অসংখ্য ব্যান্ড। ফসিলসহ বেশ কয়েকটি ব্যান্ড শাফিনের মতো শিল্পীকে গুরুর কাতারে রাখেন।
অন্যদিকে, পারফেকশন বা নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা।

শাফিনের বক্তব্য যেন হুবহু থাকে সেটার গুরুত্ব বোঝাতেই তিনি সেদিন ‘রেকর্ডার অন’ করার কথা বলেছিলেন। এমনকি সাক্ষাৎকার শেষে অনুরোধ করেছিলেন, যদি সম্ভব হয়, প্রতিবেদনটি লেখা সম্পন্ন হলে তাঁর বলা মন্তব্যের অংশটুকু যেন পড়ে শোনানো হয়।
আরেকটু যোগ করা যেতে পারে, মাইলসই একমাত্র ব্যান্ড যাঁরা ওয়ার্ল্ড ট্যুরে সব সময়ই ভারী বাদ্যযন্ত্রগুলো বয়ে বেড়াতেন। এ বিষয়ে শাফিনের বক্তব্য ছিল এমন—‘আমরা যা চাই, তা পারফেক্ট করতে এগুলো আমাদের সঙ্গে থাকতেই হবে। কারণ সারাজীবন যেগুলো ব্যবহার করে চর্চা চালিয়ে যাই, পরিবেশনের দিন সেগুলো না হলে মানিয়ে নিতেই মনোযোগ চলে যাবে। পারফক্টলি ডেলিভারি দেব কীভাবে?’
চাইলেই সবিস্তারে এমন সব উদাহরণ টানা যায়, যাবে!
তবে একবার ভাবুন তো, শাফিন আহমেদের কণ্ঠটা? সেই যে নব্বইয়ের শুরুর ‘ফিরিয়ে দাও’ (১৯৯৩) আর মাত্র সেদিন রিলিজ হওয়া ‘নির্বাসিতা’র (২০২২) কণ্ঠজাদুতে পার্থক্যটা আছে কি? মোটেও না। আসলে সংগীতশিল্পী শাফিন এতটাই পারফেক্ট ছিলেন!


মনোজিৎ থেকে যেভাবে শাফিন আহমেদ
পায়ের পর এবার চোখের সার্জারি সম্পন্ন বেজবাবা সুমনের
