‘ডায়েট, ব্যায়াম কত কিছুই তো চেষ্টা করছি, কিন্তু ওজনটাই কমাতে পারছি না।’ এটা কোনো একজনের হতাশা নয়, আমাদের অনেকেই আছি এই পরিস্থিতিতে। ডায়েট, ব্যায়াম-এ কী ত্রুটি থেকে যাচ্ছে আমাদের? তাহলে, ওজন কেন কমছে না কেনো? আসুন ব্যাপারটা বৈজ্ঞানিকভাবে জেনে নিই।
ওজন কি আসলেই বেশি?
ওজন কমানোর আগে, এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকা প্রয়োজন। আর বেশি হলে কতটুকু বেশি? সাধারণত, উচ্চতা অনুযায়ী ওজনকে ভাগ করে, BMI তে প্রকাশের মাধ্যমে, শ্রেণিবিন্যস্ত করা হয়। আমাদের অঞ্চলের মানুষ, জিনগত ভাবেই পাতলা গড়নের হওয়ার কথা। সেই হিসাবে আমাদের জন্য আদর্শ BMI, ইউরোপীয়দের থেকে কম হবে, ১৮.৫-২৪.৯। কিন্তু, তার বাইরে আমাদের অনেকের শরীরের সকল অংশ সমানভাবে মোটা না, শুধু পেট/ ভুঁড়িটাই অন্যান্য অংশের চেয়ে তুলনামূলক বেশি চোখে পড়ে। কারণ, আমাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চর্বি পেটের ভিতরের অংশে জমে।
এটি অবশ্য, আমাদের অঞ্চলের অধিকাংশ স্থূলকায় মানুষের জন্য সত্য। সেক্ষেত্রে আমাদের জন্য, কোমরের মাপ হতে পারে- স্থূলতার ভালো একটা পরিমাপ। তবে তা, ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রে আলাদা হবে, যেমন- ছেলেদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হবে ৯০ সে.মি. এর কম। আর নারীদের ক্ষেত্রে তা ৮০ সে.মি. এর কম। অনলাইনে বিভিন্ন ক্যালকুলেটর আছে, যেখানে এই BMI, কোমরের মাপ বসিয়ে, একজন সহজেই তার ওজনের শ্রেণিবিভাগ জেনে নিতে পারেন।
ওজন কেন কমাব?
সুস্থ সবল থাকার জন্য প্রয়োজন সঠিক মাত্রার শারীরিক ওজন। অতিরিক্ত যেকোনো কিছুই শরীরের জন্য খারাপ। ওজন বাড়তে থাকলে, বাড়তে থাকে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকিসহ রক্তের চর্বির মাত্রা। আমাদের দেশের নারী জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ওজন বাড়ার কারণে মুখে অবাঞ্ছিত লোম, অনিয়মিত মাসিক, বন্ধ্যাত্বতে ভুগছেন, যারা পরবর্তীতে ব্রেস্ট ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের উচ্চঝুঁকিতে আছেন। এছাড়াও ওজন বাড়ার কারণে, ঘুমের ভিতরে নাক-ডাকার সমস্যা, পিঠে ও হাঁটুতে ব্যথা, গেঁটে বাত, পিত্তথলির পাথর সহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। এর পাশাপাশি একজন স্থূলকায় মানুষ বিসাদগ্রস্থতাসহ নানা ধরনের মানসিক রোগেও ভুগে থাকেন।
ওজন কমে না কেন?
সাধারণত, একজন স্থূলকায় ব্যক্তি যখন প্রথমদিকে ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, শরীর সাধারণত প্রথম দিকে নানা উপায়ে- নিজের ওজন ধরে রাখার চেষ্টা করে। তাই প্রথমদিকে বেশ কিছুদিন ডায়েটিং ও ব্যায়ামের পরেও ওজন একইরকম থাকে। সেটাই স্বাভাবিক। পরবর্তীতে, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের নিয়ম ধরে রাখলে- একটা সময় ওজন কমতে থাকে। তবে, সেক্ষেত্রে দুটো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মাথায় রাখতে হবে।
১. ওজন কতটুকু কমানো উচিত।
২. কমানো ওজন কীভাবে ধরে রাখা যায়।
ওজন কতটুকু কমাব?
একজন স্থূলকায় ব্যক্তি তার লক্ষ্যমাত্রা থেকে কত বেশি ওজনের, তার উপরে নির্ভর করবে- তার জন্য ওজন কতটুকু কমানো উচিত। যে কোন পরিমাণ ওজন কমালেই স্থূলকায় ব্যক্তি, ওজন কমানোর সুফল পেতে শুরু করবেন। তবে, আরও নির্দিষ্ট পরিমাণে বললে, শুরুর ওজন থেকে ৫ শতাংশ ওজন কমিয়ে ফেললে সিস্টোলিক ব্লাডপ্রেশার গড় পড়তায় ৩ মি.মি. কমে যায়, ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে ফেললে ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণে সুফল পাওয়া যায়, ১০ শতাংশ থেকে ১৫শতাংশ কমিয়ে ফেললে লিভারে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমে যায় এবং ঘুমের ভিতরে নাক ডাকার সমস্যাও কমে যায়। আর ১৫ শতাংশ এর বেশি ওজন কমিয়ে ফেললে- সকল রোগের দিক থেকেই উন্নতি পাওয়া যায়।
লেখক: এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ


আচার খেলেও কি ওজন বাড়ে?
প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া নিরাপদ?
