হৃৎপিণ্ড শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। হৃৎপিণ্ড ঠিক থাকলে, সুস্থ থাকে শরীর। তাই হৃৎপিণ্ডের সমস্যা এড়িয়ে চললে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। হৃৎপিণ্ডের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বুকে অস্বস্তি বা চাপ, চোয়াল, ঘাড়, বাহু বা পিঠে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং ঘাম হওয়া ও বমি বমি ভাব। এই লক্ষণগুলো প্রায়ই গুরুতর অবস্থায় পৌঁছানোর আগে প্রাথমিকভাবে দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে হৃদপিণ্ডের কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে এসব কারণে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যেতে পারে। অনেকেই এসব লক্ষণকে ছোটখাটো কারণ বলে উড়িয়ে দেন। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হার্ট অ্যাটাক মানে এখন বয়স্কদের ব্যাপার নয়। বিশ্বজুড়েই তরুণদের হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বাড়ছে। বয়স ত্রিশ কিংবা ত্রিশের পর প্রায়ই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। ফলে সচেতন হওয়া জরুরি।
আসুন জেনে নিন, ৩০ বছর বয়সে যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার হৃৎপিণ্ড ঝুঁকিতে আছে।
১. ৩০ বছর বয়সে বুকে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি ভাব হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এ কারণে ব্যথা তীব্র নাও হতে পারে, তবে ভারী বা চাপ অনুভব করতে পারেন। অনেকে এটিকে অ্যাসিডিটি বলে ভুল করে থাকেন।
২. যদি সিঁড়ি বেয়ে ওঠতে গেলে, দ্রুত হাঁটা বা হালকা পরিশ্রম করলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে হার্ট রক্ত পাম্প করতে পারছে না। অল্প বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ লক্ষণকে কম স্ট্যামিনা মনে করে ভুল করেন। তবে ক্রমাগতভাবে শ্বাসকষ্ট প্রাথমিকভাবে হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
৩. পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এতে বুঝতে হবে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না। এটি হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
৪. অ্যারিথমিয়া অনিয়মিত হৃদস্পন্দন। মাঝে মাঝে বুক ধড়ফড় করা স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু যদি ঘন ঘন হয়ে থাকে, তাহলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। কারণ অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা ধড়ফড় করার লক্ষণ হৃদস্পন্দনের সমস্যা নির্দেশ করতে পারে।
৫. উচ্চ রক্তচাপকে প্রায়শই নীরব ঘাতক বলা হয়। বয়স ৩০ রক্তচাপ বৃদ্ধি হৃদপিণ্ড এবং ধমনীর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রাথমিকভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৬. পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া হৃদস্পন্দনের সমস্যা নির্দেশ করে। শরীরের নীচের অংশে তরল জমা হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে হৃদপিণ্ড রক্ত পাম্প করতে লড়াই করছে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হয় এবং তরল জমা হয়, যা এডিমা নামে পরিচিত। যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে এটি হৃদযন্ত্রের ঝুঁকির লক্ষণ হতে পারে।
৭. ঘন ঘন মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইঙ্গিত দেয় আপনার হৃদপিণ্ড মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ করছে না। ৩০ বছর বয়সে এটি অ্যারিথমিয়া, দুর্বল পাম্পিং থেকে নিম্ন রক্তচাপ, অথবা রক্তনালী সংকুচিত হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
৮. কষ্ট ছাড়াই ঘাম হওয়া রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হওয়া বা হৃদরোগের উদ্বেগজনক লক্ষণ হতে পারে। ৩০ বছর বয়সী অনেকেই এটিকে উদ্বেগ বলে ভুল করেন, তবে এটি ধমনীতে অবরুদ্ধতাও নির্দেশ করতে পারে।
৯. ক্রমাগত কাশি, বিশেষ করে যদি সাদা শ্লেষ্মা তৈরি করে, তা হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে ফুসফুসে তরল জমা হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। অল্পবয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, এটি প্রায়শই হাঁপানি বা মৌসুমি অ্যালার্জি বলে ভুল করা হয়।
১০. যদি আপনার হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকে, তবে মাঝে মাঝে বুকে অস্বস্তি, ঘন ঘন ক্লান্তি বা উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো হালকা লক্ষণগুলিও উপেক্ষা করা উচিত নয়। ৩০ বছর বয়সে পারিবারিক ইতিহাস এবং জীবনযাত্রার মান হৃদরোগের প্রাথমিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি



