সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় Palais des Nations-এ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরের খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ (Large Scale Food Fortification) কার্যক্রমের অগ্রগতি, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে Global Alliance for Improved Nutrition এবং Helen Keller International।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশ নিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। Global Alliance for Improved Nutrition এবং Helen Keller International-কে ধন্যবাদ জানাই বৃহৎ পরিসরের খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ বা Large Scale Food Fortification বিষয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আয়োজনের জন্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশকে খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশে লবণ, ভোজ্যতেল, গমের আটা এবং চাল পুষ্টি সমৃদ্ধকরণের আওতায় আনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আয়রন, আয়োডিন, ভিটামিন-এ, জিংকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি কমাতে ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বৃহৎ পরিসরের খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ হচ্ছে অপুষ্টি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর, ব্যয়-সাশ্রয়ী এবং টেকসই উপায়গুলোর একটি। বিশেষ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি বলেন, তবে এ অগ্রযাত্রায় এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। নীতিগত সমন্বয়ের ঘাটতি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, মান নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বাজারভিত্তিক কিছু প্রতিবন্ধকতা আমাদের সামনে রয়েছে। একইসঙ্গে উৎপাদকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভোক্তা সচেতনতা এবং টেকসই বাজার কাঠামো গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশ সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা নীতি সহায়তা জোরদার করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি চালু করা “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচির কথা। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। আমরা মনে করি, যদি এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় পুষ্টি সমৃদ্ধ চাল, আটা এবং ভোজ্যতেল অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে এর প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পাবে। এটি শিশু, নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী আরও বলেন, আমি আশা করি, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে এবং বৈশ্বিক পরিসরে একটি সফল উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে



