পয়লা বৈশাখ এলেই ঢাকার রাস্তাঘাট যেন অন্য এক শহরে পরিণত হয়। লাল-সাদা পোশাক, আলপনায় সাজানো পথ, ভোরের গান আর দিনভর উৎসব। সব মিলিয়ে রাজধানী হয়ে ওঠে প্রাণের মেলায় ভরা এক বিস্তৃত প্রাঙ্গণ। তবে এত আয়োজনের ভিড়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। কোথায় গেলে সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যাবে নতুন বছরকে? সেই দোটানা কাটাতেই থাকল ঢাকার ৬টি বড় বর্ষবরণ আয়োজনের খোঁজখবর।
রমনা ও চারুকলা: উৎসবের প্রাণকেন্দ্র
পহেলা বৈশাখের সকাল মানেই রমনা বটমূল। এখানে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সূচনা হয় নতুন বছরের। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজারো মানুষ জড়ো হন এই প্রাঙ্গণে। এরপর চোখ চলে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের দিকে। এখান থেকেই বের হয় বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত একটি ঐতিহ্য। মুখোশ, প্রতীক আর রঙিন শিল্পকর্মে ভরে ওঠে চারপাশ।
যাত্রাবিরতির বৈশাখী আয়োজন
রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত ‘যাত্রাবিরতি’র দুই দিনের উৎসব যেন গ্রামবাংলার এক টুকরো ছবি। বাউলগান, পুতুলনাচ, লোকজ মেলা আর বায়োস্কোপ, সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ। সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া যোগ করতে থাকছে ব্যান্ড পারফরম্যান্সও। টিকিট কেটে ঢুকতে হলেও যারা একটু আলাদা অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণ।
আর্কা বৈশাখ ১৪৩৩: ফিউশন উৎসব
গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডের ‘আলোকি’ প্রাঙ্গণে বসছে ‘আর্কা বৈশাখ’। এখানে বৈশাখ মানে শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং আধুনিকতার সঙ্গে তার মেলবন্ধন। মেলা, খেলাঘর, ভোজনালয় আর লাইভ মিউজিক, চারটি ভাগে সাজানো এই আয়োজন তরুণদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। দিনভর ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া আর কনসার্ট, সবই এক জায়গায়।
বিসিক বৈশাখী মেলা: ঐতিহ্যের ছোঁয়া
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বসা বিসিকের বৈশাখী মেলা যেন গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য প্রদর্শনী। নকশিকাঁথা, মাটির পণ্য, হাতের তৈরি অলংকার, সব মিলিয়ে এখানে পাওয়া যায় বাংলার শেকড়ের গন্ধ। কয়েক দিন ধরে চলা এই মেলায় ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছুই রয়েছে।
এসএমই বৈশাখী মেলা: পরিবারসহ আনন্দ
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ চলা এসএমই বৈশাখী মেলায় রয়েছে ৩০০টির বেশি স্টল। কেনাকাটার পাশাপাশি শিশুদের জন্য আছে নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, এমনকি টিয়া পাখির খেলা। পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আয়োজন।
বৈশাখী উৎসব: সবার জন্য উন্মুক্ত
ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনস ও কোর্টসাইডের যৌথ আয়োজনে ‘উৎসবে বৈশাখ’ মূলত তরুণদের জন্য এক জমজমাট অনুষ্ঠান। আলপনা, পাপেট শো, লুডু খেলা থেকে শুরু করে বিকেলের কনসার্ট। সব মিলিয়ে এটি এক প্রাণবন্ত আয়োজন। যারা গান আর আড্ডায় দিন কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। যেতে হবে ঢাকার শেফস টেবিল কোর্টসাইডে।
জায়গা যাই হোক, বৈশাখের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে মানুষের মিলনে, রঙে আর উচ্ছ্বাসে। নতুন বছরের সেই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক শহরজুড়ে।



