প্রশ্নফাঁসে জড়িত পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক আবেদ আলীর দুর্নীতির টাকার ভাগীদার সবাইকে খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। ফাঁস করা প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে যারা সরকারি কর্মকর্তা হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্ট চত্ত্বরে তিনি এ দাবি জানান।
সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘আবেদ আলী গাড়িচালক থাকাকালীন অনেকেই পিএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন তারা এর দায় এড়াতে পাড়েন কিনা। তারা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা? অথবা গাড়িচালকের মাধ্যমে উনারা টাকা নিয়েছেন কিনা? এটা ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।’
তা না হলে হাইকোর্টের দ্বারস্ত হবেন বলে জানান সায়েদুল হক সুমন।
উল্লেখ্য, রোববার ‘বিসিএস প্রিলি–লিখিতসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস’ শিরোনামে চ্যানেল টোয়েন্টিফোর সংবাদ প্রকাশ করে। সংবাদে পিএসসির ক্যাডার ও নন–ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ গত ৫ জুলাই (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত রেলওয়ের ৫১৬টি পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। একটি চক্র এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিসিএসসহ ৩০টি ক্যাডার ও নন–ক্যাডার পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এর সঙ্গে পিএসসির কয়েকজন কর্মকর্তা–কর্মচারী জড়িত। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) আওতাধীন ক্যাডার ও নন–ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আলোচনায় আসার পর দুজন উপপরিচালক ও গাড়ি চালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার করা হয়েছে—বিপিএসসির উপপরিচালক মো. আবু জাফর, মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির, অবসরপ্রাপ্ত ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী, অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম, ডেসপাস রাইডার খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. নিয়ামুন হাসানকে।
এছাড়াও গ্রেপ্তার করা হয়েছে নোমান সিদ্দিকী, সোলায়মান মো. সোহেল, প্রিয়নাথ রায়, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. মামুনুর রশীদ, সাখাওয়াত হোসেন, সায়েম হোসেন, লিটন সরকার ও সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে।
এদিকে এই ঘটনায় এরই মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি)। কমিটিকে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক কমিশনের যুগ্ম সচিব ড. আব্দুল আলীম খান। অন্য দুজন হলেন, কমিশনের পরিচালক দিলাওয়েজ দুরদানা ও মোহাম্মদ আজিজুল হক।



