ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণার মধ্যেও অধ্যাপক ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে, বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্কের আমূল পরিবর্তন হবে না। তাদের মতে, কোনো একক দলের বদলে রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক রাখলে, দুই দেশের জন্যই সেটা সম্মানের হবে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। বিক্ষুব্ধ জনতার তোপের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর থেকেই প্রতিবেশী দেশটির গণমাধ্যম ও রাজনীতিকরা বাংলাদেশ বিরোধী ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে আগরতলায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনে হামলাও হয়েছে।
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপড়েন, সীমান্ত উত্তেজনা, ভিসা জটিলতা, ভারতে বসে হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যেও রাজনৈতিক বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।
এর মধ্যে বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে গত শুক্রবার বৈঠকে বসেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির এ বৈঠক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কে একটা শীতলতা বিরাজ করছে। সেখানে ভারতীয় মিডিয়া বেশ নেগেটিভ রোল প্লে করছে। নরেন্দ্র মোদি একটা প্রাগমেটিক্স স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। আমার মনে হয়, ভারতও উপলব্ধি করতে পেরেছে বাংলাদেশের মানুষ আসলে কি চাইছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আছে, সামনে নির্বাচন, ফলে একটা পট পরিবর্তন হবে। সেই জায়গা থেকে আমরা বলছি, ভারতের উচিত একটি দলের সমর্থন থেকে সরে গিয়ে রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা।’
বিশেষ দল নয়, রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক রাখলে দুই দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ভারত আসলে বুঝতে পেরেছে একটি দলের সাথে সম্পর্ক রাখা বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নয়। তারা তাদের জায়গা থেকে সরে এসেছে। তারা এখন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়, এটা ভালো উদ্যোগ।’
তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত হত্যার মতো ইস্যুতে নিয়মিত আলোচনায় সংকট সমাধান হতে পারে মত বিশ্লেষকদের।



