লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় ত্রিপলী থেকে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রত্যাবাসিতরা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারা ত্রিপলী ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক সংকটাপন্ন পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন। এদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থসহ মোট ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ রয়েছেন। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যাবাসনের আগে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে অভিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের উদ্দেশে প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে বলেন, লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বহির্গমন ভিসা (খুরুজ নিহায়ী) প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রয়োজনীয় ফ্লাইট নিশ্চিত করতে লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে অভিবাসীদের উৎসাহিত করেন এবং অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণ করে স্বনির্ভর হওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ছাড়া দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারিত অভিবাসীদের দেশে ফিরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও দুর্ভোগ সম্পর্কে নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী এবং বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন ও নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চলতি বছরে আইওএম-এর সহযোগিতায় চারটি প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে এ পর্যন্ত ৬৮৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নিবন্ধিতদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে দূতাবাস লিবিয়া সরকার, আইওএম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে।



