রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন। শুক্রবারই তাঁর পদত্যাগপত্র পৌঁছেছে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে।
পদত্যাগের জন্য শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’
এ ছাড়া পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে সই করা মাত্রই তা কার্যকর হয়ে যায়। মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ৫ বছর। তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে পরবর্তী ৫ বছর এ দায়িত্বে থাকতে পারেন। সে হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ছিল ২০২৮ সাল পর্যন্ত। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ মেয়াদে এ দায়িত্বে থাকতে পারেন। এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ।


পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
