দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের মুখপাত্রের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ ও মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। দুদকের তরফ থেকে তার বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরুর প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার রাতে এনসিপি'র প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আসিফ জানান, কেবলমাত্র বিরোধী পক্ষকে রাজনৈতিকভাবে কোনঠাসা করতেই দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, 'বিএনপি সরকার আওয়ামী কায়দায় বিরোধী দলকে দমন করছে।'
উল্লেখ্য, আজ বুধবার আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে জানান দুদকের মুখপাত্র। তাঁদের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বদলি বাণিজ্য এবং নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে দুদকের তরফ থেকে জানানো হয়। এ বিষয়ে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই দুদক-এর উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
তবে দুর্নীতির সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের ভারপ্রাপ্ত ৩৬ জন কর্মকর্তার পদায়ন বাতিল করে আদালত। তাই এ বিষয়টিতে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।'
তিনি আরও জানান, ১৮২ জন কর্মকর্তা পদোন্নতির বিষয়ে যে দুর্নীতির কথা বলা হয়, সেটি মন্ত্রনালয় করেনি, করেছে পিএসসি। সেক্ষেত্রে দুদক পিএসসি'র বিরুদ্ধেও তদন্ত করবে কি না, প্রশ্ন আসিফ মাহমুদের।
দুদকের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপি মুখপাত্র। 'গত ৫ মাসে দুদকে কোন মামলা হয়নি, কিন্তু এখন করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সে তদন্ত কেন হচ্ছে না,' প্রশ্ন আসিফের।
শক্তিশালী যুক্তি বা প্রমান ছাড়া দুর্নীতির এ ধরণের অভিযোগ মূলত বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে দমন করার জন্যই করা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে সরকার দুদককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া।
দুদকের মুখপাত্র যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, বা গণমাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে ভুল স্বীকার না করেন, তাহলে দুদক মুখপাত্রের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করারও হুশিয়ার দেন তিনি।



