দিল্লি ও ওয়াশিংটন কি পরস্পরের বন্ধু?

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:১৯ পিএম

গত বছর জুলাইয়ে টাইম ম্যাগাজিনের একটি নিবন্ধের শিরোনাম ছিল—ভারত আমেরিকার সতীর্থ নয়–কখনো হতেও চায় না। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এলিয়ট স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ইতিহাসের অধ্যাপক অ্যালিসা আইরেস তাঁর নিবন্ধে এই শিরোনামটাই ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু আমেরিকার সাথে ভারতের দহরম-মহরম দেখে কি তাই মনে হয়? নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পরপরই ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে (২৬ জানুয়ারি, ২০১৫) তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে প্রধান অতিথি করে অনেকটা তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গার পর নরেন্দ্র মোদির আমেরিকায় ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। কিন্তু মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই সে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়ে যায়। ২০২৪-এর নির্বাচনে মোদি সরকার ফের ক্ষমতায় এলে আমেরিকার সব দিক থেকে সুবিধা বলে বলা হচ্ছে। তারপরও টাইমের মতো ম্যাগাজিনে এ ধরনের শিরোনাম হয় কীভাবে? তাহলে কী আমেরিকা ও ভারত পরস্পরকে বিশ্বাস করে না? বিশ্বাসই যদি না করে তবে চীনের সাথে দ্বন্দ্ব-যুদ্ধে ভারতকে কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী মনে করছেন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকেরা?

এই প্রশ্নের জবাব আছে ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির আদিতে। এই সময় সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তখনকার দ্বিমেরু বিশ্বে (আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন) কারও পক্ষ নিতে চাননি। এ ব্যাপারে তাঁর অভিমত ছিল দৃঢ়। ১৯৫১ সালের মার্চে ভারতীয় সংসদে নেহরু বলেছিলেন, ‘যেকোনো একটি শক্তির সাথে নিজেদের মিলিয়ে ফেলার অর্থই হলো আপনি আত্মসমর্পন করে ফেললেন। আপনার কোনো মতামত রইলো না। আপনি সাধারণত যে নীতি অনুসরণ করেন, তা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেন। কারণ অন্য কেউ চায় যে, আপনি অন্য নীতি অনুসরণ করুন।’ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এই লেজুড়বৃত্তির ধারণা প্রথমেই ত্যাগ করেছিলেন তিনি। আজ সবকিছুর মধ্যে নেহরু জমানার খারাপটা দেখলেও গত ১০ বছরে মোদি সরকার পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নেহরুর দেখানো পথ থেকে সরে আসতে পারেনি। তাই তো মোদি সরকার আমেরিকার কাছ থেকে যুদ্ধাস্ত্রও কিনছে। আবার তাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার কাছ থেকে কম দামে জ্বালানি তেলও নিচ্ছে।

কিন্তু আমেরিকা কি এটা পছন্দ করে? চীনের বিরুদ্ধে অক্ষশক্তি কোয়াড তৈরির ব্যাপারে ভারত যে রকম তৎপরতা দেখিয়েছে, তাতে ওয়াশিংটন একটু অবাকই হয়েছে। আমেরিকা-জাপান-অস্ট্রেলিয়া-ভারতকে নিয়ে গঠিত এই জোটে দিল্লির অংশগ্রহণে উৎসাহীরা ভেবেছিলেন দিল্লির চিন্তা-ভাবনায় একটা পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সে গুড়ে বালি দিয়ে চীন, রাশিয়া ও অন্যদের নিয়ে ব্রিকসকে বাড়াতে মোদির তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। ব্রিকস জোটের নতুন সদস্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ছিল নতুনত্ব। এই জোটকে আসলেই জি-৭ বা পশ্চিমা অধিপত্যের বিরুদ্ধে নতুন এক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন মার্কিন কর্তারা। তবে তাঁদের সবচেয়ে মন খারাপ, গত দু বছর ধরে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ তাদের প্রিয় বন্ধু মোদি সরকার এর নিন্দায় টু শব্দটি পর্যন্ত করছে না। এটা কেমন কথা। আর চীনকে ঠেকানোর উদ্যোগে ভারত তার নিজস্ব ভৌগলিক সীমা ছেড়ে বেরোতে চাইবে কিনা, তা নিয়ে ঘোরতর সন্দেহ আছে আমেরিকা ও তার মিত্রদের।

এত কিছুর পরও তাহলে আমেরিকা ও ভারত এত ভাই-ভাই কেন? কারণ পুরোটাই ব্যবসায়িক। দেনাপাওনা বা লাভ-ক্ষতির জটিল অঙ্ক। ২০০০ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ যা ছিল, ২২ বছরে তা বেড়েছে ১০ গুণের বেশি। ২০২২-এ এর পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ১৯১ বিলিয়ন ডলারে। এ ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদির তেমন কোনো কৃতিত্ব নেই। যদি কাউকে দিতে হয়, তিনি হলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে প্রয়াত নরসিমা রাও মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভারতের বাজারকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন সবার জন্য। আর এটাই এতদিন কাঙ্ক্ষিত ছিল পশ্চিমা পুঁজির কাছে। এরপর থেকে যে পরিবর্তনের শুরু, দিনে দিনে তা আরও বেগবান হয়েছে। আজ নরেন্দ্র মোদির চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন দেওয়ার পেছনে আছে ব্যবসায়িক চিন্তা। চীন থেকে কত বেশি মার্কিন পুঁজি ভারতে আনা যায়, তারই লক্ষ্যে কাজ করছে তারা। তাইওয়ানের পরিস্থিত উত্তপ্ত হওয়ার পর মাইক্রো চিপসের সবচেয়ে বড় কারখানা হচ্ছে গুজরাটে। অ্যাপল নতুন করে ভারতে আইফোন তৈরির কাজ শুরু করেছে। সব মিলিয়ে উদ্দেশ্য একটাই—যত বেশি মার্কিন পুঁজি টানা যায়। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স তারপরও এতটা মাখামাখির মধ্যে দুই দেশের সম্পর্কে সন্দেহের কাঁটা সব সময় খচখচ করছে। যে কারণে ইউরোপের কোনো দক্ষিণপন্থী নেতার নির্বাচন নিয়ে আমেরিকা প্রশ্ন না তুললেও এবারই প্রথম ভারতের জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কংগ্রেস দলের ব্যাংক হিসাব জব্দ নিয়ে কথা বলেছেন। যে কথার মূল সুরই হলো, নির্বাচনের আগে এসব কেন? রাষ্ট্রযন্ত্রের নগ্ন ব্যবহার থামাও। কারণ আমেরিকার ভয়, যে ভারতের ওপর ভরসা করে তারা এগোতে চাইছে, সেখানে যদি অস্থিরতার বাতাবরণ তৈরি হয়, বিরোধী মত দমন, সংখ্যালঘু নিপীড়ন, মানবাধিকার লংঘনের বিষয় নিয়ে কথা ওঠে, তাহলে কাজটা কঠিন হয়ে যাবে। মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা এ-ও জানেন, ভারতে সরকার পরিবর্তন হলেও বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের মার্কিন নীতিতে তেমন কোনো বদল আসবে না। কিন্তু বন্ধুপ্রতীম বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে কোনো গোলোযোগ তাদের জন্য সুখকর হবে না।

সবার নিশ্চয় মনে আছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিল্লি সফরের সময় (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০) তাঁর অবস্থানের অদূরে রাজধানীর একাংশ সহিংসতার আগুনে জ্বলছিল। ট্রাম্প বলেই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বা সফর বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেননি। কিন্তু তাঁর জায়গায় হিলারি বা বাইডেন থাকলে কী করতেন, বলা কঠিন। কারণ এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরীক্ষিত প্রেসিডেন্ট বাইডেনকেও জনমতের চাপে পড়ে নেতানিয়াহু সম্পর্কে মুখ খুলতে হয়েছে। আর ভারত যত বড়ই বন্ধু হোক না কেন, তারা ইসরায়েল নয়। 

এই জায়গায় খেলাটি খেলছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি ক্ষমতায় বসে বুঝতে পেরেছিলেন, আমেরিকার ওপর চাপ তৈরি করতে হলে সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের সহায়তা তাঁর দরকার। এ কারণে ক্ষমতায় বসার পর ছয়বার তিনি আমেরিকা সফরে গেছেন। এর মধ্যে মাত্র একবারই ছিল রাষ্ট্রীয় সফর। এর প্রত্যেকটি সফরে তিনি প্রবাসী ভারতীয়দের (বলা ভালো ধর্মীয় পরিচয়ে যারা হিন্দু) মধ্যে এক ধরনের অস্মিতা বা আত্মগর্ব তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। ভারত যে একটা বিশ্বশক্তি হয়ে উঠছে এবং তিনি যে ‘বিশ্বগুরু’, এটা প্রতিষ্ঠার সব ধরনের প্রয়াস অব্যাহত রেখেছেন। এ কারণে নিউজার্সিতে মোদি উদ্বোধন করেছেন বিশাল জমির ওপর তৈরি স্বামীনারায়ণ মন্দির, যা বিজেপি ও স্বয়ং মোদির রাজনীতির একটি স্মারকও বটে।

কিছু তথ্য হিসাবে রাখলে বিষয়টি বুঝতে আরও সুবিধা হবে। আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভুতদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ। কিন্তু তারা আয়কর দেয় প্রদেয় করের ছয় শতাংশ। অর্থাৎ, এই প্রবাসী ভারতীয়রা উচ্চশিক্ষিত এবং উচ্চ বেতনভূক বা আয়ের অধিকারী। সুন্দর পিচাই বা সত্য নাদেলার মতো অন্তত ২৫ জন ভারতীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকান আছেন, যাঁরা সে দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাইডেন প্রশাসনে ১৩৫ জনের বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভুত আছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। এরা সবাই নিশ্চয় আমেরিকার স্বার্থকেই আগে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তারপরও নাড়ির টান বলে তো একটা কথা আছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ক্ষমতায় এসেই আমেরিকায় বসবাসরত এই জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করছেন। কারণ, ইসরায়েলের উদাহরণ থেকে তিনি বুঝেছেন হস্তিসম দেহ বা আর্থিক সক্ষমতা বা ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা থাকলেই হবে না, সেখানে প্রভাব বিস্তারকারী নিজের মানুষ দরকার। আর এরা হতে পারেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত সেই হিন্দুরা, যারা এখনো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে ভারতীয়। মোদির এই কৌশল কতটা কাজে আসবে, সেটা বলার মতো সময় এখনো আসেনি। তবে মার্কিন ভূখণ্ডে এই গৃহত্যাগী ভারতীয়দের মধ্যে তিনি যে একটা জোয়ার তুলতে পেরেছেন, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

প্রভাবের পাশাপাশি প্রশ্নও আছে। শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার সাথে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এরপর ভারত কূটনৈতিকভাবে কানাডাকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে। একপর্যায়ে চুপ করে যেতে হয়েছে কানাডাকে। অথচ তাদের এই তথ্য দিয়েছিল আমেরিকার গোয়েন্দারাই। তবে কানাডার সাথে যে দাদাগিরি মোদি সরকার দেখিয়েছিল, তা পারেনি আমেরিকার অভিযোগ সম্পর্কে।

শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার ও  গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নু। ছবি: রয়টার্স নিউইয়র্কের শিখ নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুর হত্যাচেষ্টার সাথে ভারতীয় গোয়েন্দাদের যোগসাজশের প্রমাণ দেয় আমেরিকা। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। প্রথমে ভারত উড়িয়ে দিলেও আমেরিকা বিষয়টি ছাড়েনি। কারণ, পান্নু আমেরিকার নাগরিক এবং আমেরিকার মাটিতে একজন আমেরিকার নাগরিককে বাইরের কোনো দেশের লোক এসে মেরে যাওয়ার চেষ্টা করবে, এটা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের জন্য মানা কঠিন। এফবিআই-এর প্রধান এসে দিল্লিতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা র-এর কর্তাব্যক্তিদের সাথে কথা বলে যা বার্তা দেওয়ার দিয়েছেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পান্নুর হত্যাচেষ্টার সাথে যিনি জড়িত বলে অভিযোগ, সেই নিখিল গুপ্তা আসলে একজন দুর্বৃত্ত বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি। তিনি আসলে ভারতীয় গোয়েন্দা হয়ে কাজ করছিলেন না, এমনটাই আমেরিকাকে জানিয়েছে তারা। তবে বিশ্বাস করা না করা আমেরিকানদের নিজস্ব ব্যাপার। আর মামলাটা এখন নিউইয়র্কের আদালতে বিচারাধীন। তবে একটা বিষয় ঠিক ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ দুই দেশই বিষয়টা এত প্রচারে আনতে চাইছে না। বরং গোপনে মিটমাট করতে আগ্রহী।

এসব কারণে ভারতকে আরও শক্ত সম্পর্কের বাঁধনে বাঁধতে চায় ওয়াশিংটন। ন্যাটো জোটের কথা সবাই জানে। ন্যাটো প্লাস জোটের কথাও শুনে থাকবে। এই জোটে ন্যাটোর বাইরে পাঁচটি সদস্য দেশ আছে। এরা হলো অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইসরায়েল, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। কিছুদিন আগে মার্কিন হাউস কমিটিতে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ওই প্রস্তাবে ভারতকে ন্যাটো প্লাস জোটে শরিক করার কথা বলা হয়েছে। এই প্রস্তাব মোদি সরকার বা ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক না কেন, তাদের জন্য শাঁখের করাত হবে। প্রস্তাব মানা কঠিন। কারণ, পররাষ্ট্রনীতি ব্যাপারে নেহরুর আমল থেকে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা মতৈক্য আছে। সেটা হলো কোনো জোটে সামিল না হওয়া। আবার না মানলে অবিশ্বাসী হিসেবে বন্ধু আমেরিকার আস্থা অর্জন সহজ হবে না। নরেন্দ্র মোদির জন্য এটা যেমন কঠিন পরীক্ষার, তাঁর জায়গায় নতুন কেউ এলে তিনিও একই সমস্যায় পড়বেন। তাহলে ‘আব কী বার ট্রাম্প সরকার’ এলে কোনো সুরাহা মিলবে। দেখা যাক।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিটাল বিভাগ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর তা হলো ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।‘ কিন্তু বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির...
আমি বলছি না যে সাক্ষাৎকার নেওয়া সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমগুলো ঘুষ খেয়েছে। কিন্তু যে জনসংযোগ–লবিং প্রতিষ্ঠান এত নিখুঁতভাবে এই প্রচার অভিযান সাজিয়েছে, বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তারা নিশ্চয়ই মোটা...
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগাভাগি এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ন্যায্য পানি–অধিকারের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ক্ষমতার অসমতা এবং...
নেপালসহ দেশে দেশে সরকার পতন ও এরপরের ‘খিচুড়ি’ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে সেসব অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো না হয় ‘ডাল’ আর ‘চাল’-এর ভূমিকা নিয়েছে। আগুন হিসেবে কাজ করেছে জেন জি-র ক্ষোভ। কিন্তু খিচুড়ি রান্নার...
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানী মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটুয়ারটেক এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বাতাসে আদ্রতা বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে দশ ভাগ। দিন ও রাতের তাপমাত্রা এক থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তি। তাই অক্টোবরে এবার রাতে অসহনীয় গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, নভেম্বরের শেষে শীত শুরু...
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও আজ খোলা থাকছে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ব্যাংক। একই সঙ্গে স্বাভাবিক থাকছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে এ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ। এ বছর পঞ্জিকা অনুযায়ী দুই দিন তিথি থাকায় আগামীকালও উদযাপিত হবে মহাসপ্তমী। সপ্তমী পূজার সবচেয়ে প্রধান এবং প্রথম আচার অনুযায়ী সকালে শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে নবপত্রিকা...
লোডিং...

এলাকার খবর