রাজশাহী বিভাগের মোট ভোটকেন্দ্রের ৫৭ শতাংই ঝুঁকিপূর্ণ। যা নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ। পুলিশ বলছে, ভোটকেন্দ্রের ঝুঁকি বিবেচনায় চিহ্নিত করে সাজানো হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা। সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোর প্রস্তুতি চলছে। অনেক কেন্দ্রে স্থাপন করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৫০৪টি। এর মধ্যে দুই ক্যাটাগরিতে ঝুঁকিপূর্ণ ৩,১৭৩টি ভোটকেন্দ্র। ঝুঁকি বিবেচনায় তিন রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে ভোটকেন্দ্র।
অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় ১ হাজার ৫১টি কেন্দ্রকে লাল রঙ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরের ধাপে আছে ঝুঁকিপূর্ণ ২ হাজার ১২২টি হলুদ রঙ চিহ্নিত। আর ২ হাজার ৩৩১টি কেন্দ্র ঝুঁকির বাইরে থাকায় সবুজ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নানা কোন্দলে সহিংসতার শঙ্কায় স্থানীয়রা। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি তাঁদের।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিগত কয়েকবার ভোটারেরা চাইলেও ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। এবার সকলে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রার্থীদের মধ্যেও। অনেকের মতে, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি এবার ভিন্ন।
রাজশাহী-২ আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বীরের জাতি, সাহসী জাতি। তাঁদের প্রতীক হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগার। নির্বাচন হবে, অবশ্যই হবে।’
রাজশাহী-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দেশের জনগণ এখন অনেক সচেতন। তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, প্রয়োজনে দেশকে রক্ষায় তাঁরা যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে।’
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সব বিষয় বিবেচনায় রেখেই নেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, মানুষ যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও ভীতিহীন পরিবেশে ভোট দিতে যেতে পারে সে রকম একটা পরিবেশ নিশ্চিত কাজ চলছে।
বিভাগের আট জেলায় মোট ভোটার ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮১ লাখ ৮২ হাজার ৭১৭ জন। আর পুরুষ ভোটার ৮১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৫ জন।



