আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনেই এবার ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধের আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মাঠের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি শক্ত অবস্থানে আছে বিএনপি ও জামায়াতের জোটের প্রার্থীরাও।
রংপুর-১ (গংগাচড়া) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জাতীয় পার্টির মঞ্জম আলী, বিএনপির মোকাররম হোসেন এবং জামায়াতের রায়হান সিরাজীর মধ্যে। অন্যদিকে, বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে জামায়াতের এটি এম আজহারুল ইসলামের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মন্ডল ও বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকারের মধ্যে হবে ভোটের লড়াই।
জেলা সদর নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনটি সঙ্গত কারণেই থাকছে বাড়তি আলোচনায়। এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তাঁর সাথে ভোটযুদ্ধে আছেন বিএনপির সামসুজ্জামান সামু এবং জামায়াতের মাহবুবুর রহমান বেলাল। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র এক প্রার্থীসহ আরও ৮ জন লড়বেন ভোটের মাঠে।
পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনে লড়াই হবে বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসার সঙ্গে এনসিপি'র হেভিওয়েট প্রার্থী ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির মুখ আখতার হোসেনের। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জাতীয় পাটির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান।
রংপুর-৫ আসনে জামায়াতের গোলাম রব্বানী, জাতীয় পার্টির এস এম ফকরউজ্জামান এবং বিএনপির গোলাম রব্বানীর মধ্যে হবে মূল লড়াই। তিন প্রার্থীই নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে রংপুর-৬ আসনেও। এখানে লড়াইয়ে আছেন বিএনপি'র সাইফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রংপুরে নির্বাচনের মাঠে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৮১ হাজার ৫শ। মোট ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৪০টির বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় পার্টির 'ঘাঁটি' হিসেবে পরিচিত রংপুরে এবার অনেকটাই বদলে গেছে নির্বাচনী সমীকরণ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মাঝে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।



