চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির। আর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম নির্বাচনেই জিতেছে ছয় আসনে। তবে দলটির আরও বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। জামায়াত জোটে যাওয়ায় তা কমেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। অন্যদিকে, ফ্যাসিবাদের সহযোগী হওয়ায় জাতীয় পার্টির ভরাডুবি। আওয়ামী লীগ ভোটে থাকার সুযোগ পেলেও ফল একই রকম হতো বলে বিশ্লেষকদের মত।
জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া দল এনসিপির এবারের সংসদ নির্বাচনে ফলাফল ইতিবাচক। আর স্বৈরশাসকের সহযোগী দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে বর্জন করেছেন ভোটারেরা।
এনসিপি ৩০টি আসনে লড়াই করে জয় পেয়েছে ৬টিতে। আর জাতীয় পার্টি ২০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে জিততে পারেনি একটিতেও। দলটির প্রধান জিএম কাদের তাঁর আসনে তৃতীয় স্থানে।
জামায়াত জোটে যাওয়ায় এনসিপির ভোট প্রত্যাশার চেয়ে কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র-জনতার দলটি একক নির্বাচন করলে অভ্যুত্থানের পক্ষের আরও বহু ভোটার আকৃষ্ট করতে পারত।
জাতীয় পার্টির ভরাডুবি ফ্যাসিবাদের লেজুড়বৃত্তির ফল, বলছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে ভোটে লড়াই করার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের ফলও হত হতাশাজনক।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে জাতীয় পার্টি কাজ করেছে। তারা পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে গড়ে ওঠেনি, তাদের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল না। এতে তাদের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়।’
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিসের ডিরেক্টর ড. এম জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রধান নেতা একটি আসনও পাননি। একটি দলের তাবেদারি করে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না।’
গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসনের পতনের পর অধিকার সচেতন মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও বেশি স্বাধীন ও নির্ভার। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে বাড়াতে হবে গণতান্ত্রিক চর্চা। বাদ দিতে হবে চাপ প্রয়োগের সংস্কৃতিও, বলছেন বিশ্লেষকেরা।



