রোহিঙ্গাদের দুঃখ–দুর্দশা আর বাংলাদেশের মাহাত্ম্য তুলে ধরতে আমেরিকার নিউইয়র্ক স্টেটের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফালোতে এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী তুলে ধরলেন বাঙালি শিক্ষার্থীরা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিয়েস্টা’-তে বিশ্ববিদ্যালয়টির বাঙালি স্টুডেনট অ্যাসোসিয়েসন (ইউবিবিএসএ) তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। প্রতিবছর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দেশের ছাত্র সংগঠন।
এ বছর ৫টি সাধারণ প্রদর্শনী এবং ৬টি প্রতিযোগিতামূলক অ্যাক্টের মধ্য হতে ইউবিবিএসএ এই স্থান অর্জন করে। এই নিয়ে পর পর দুই বছর তারা এই স্থান ধরে রাখতে সক্ষম। এবারের প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘সম্প্রীতি’। যেখানে সংগঠনটি বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা বিষয়টি তুলে ধরেছে।
আকারে ছোট এবং ঘনবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে।
তাদের অ্যাক্টটিতে রহমান পরিবার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া হাজারো রোহিঙ্গা পরিবারেরই একটি। যারা সীমান্ত পারাপারের সময় তিনজন বিছিন্ন হয়ে যায়। বিছিন্ন হয়ে তিনজন তিনটি ক্যাম্পে জায়গা পায়। যেখানের পরিবেশ একে অপর থেকে ভিন্ন। রহমান সাহেব মসজিদে কাজ করার একপর্যায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। অপরদিক মিসেস রহমান জায়গা পান একটি হিন্দু ক্যাম্পে। যেখানে তিনি অন্য নারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির কাজ শেখেন।
তাদের ছেলে আলী তখন শিল্পের দিক নিজেকে ধাবিত করেন। দিনের পর দিন নেওয়া সংগীতের তালিম তাকে একদিন দেশসেরা সংগীতশিল্পী করে তোলে। তার এই সুরের টানই তার মা এবং বাবাকে একত্রে আনে। সেই সঙ্গে একত্রিত করে তাদের তিন সম্প্রদায়কে।
তিন সম্প্রদায় একত্রে তাদের মিলন উদযাপন করে। এরই মধ্য দিয়ে এটি দৃশ্যমান হয় যে, বাংলাদেশ আকারে ছোট আর ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হলেও এটি উদার মনের অধিকারী। আমরা মনে-প্রাণে, কাজে-কর্মে ‘হারমনি বিয়ন্ড বর্ডারস’-এ বিশ্বাস করি। বাঙালি শিক্ষার্থীদের এই অ্যাক্ট শেষ করার পরক্ষণেই পুরো অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়। যা উপস্থিত সকল বাঙালির জন্য গর্বের ছিল।
প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে ইন্ডিয়ান ও ফিলিপিনো স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েসন।



