লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় শিল্প মেলা জোনা মাকো শুরু হয়েছে মেক্সিকো সিটিতে। বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ বছর মেলার কয়েক'শ গ্যালারিতে ঠাঁই পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র শিল্পকলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর সমসাময়িক শিল্পকর্মসহ অনেক চমকপ্রদ আয়োজন। চার দিনব্যাপী মেলায় ক্লাসিক শিল্পীদের কাজের পাশাপাশি তরুণদের সৃজনশীল কাজও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দুই শতাধিক আর্ট গ্যালারির উপস্থিতিতে মেক্সিকো সিটিতে চলছে এ বছরের 'জোনা মাকো' আর্ট ফেয়ার। শিল্প মেলার একদিকে রয়েছে ফ্রিদা কাহলো ও ফার্নান্দো বোতেরোর মতো আইকনিক শিল্পীদের কাজ। অন্যদিকে জায়গা পেয়েছে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিরীক্ষাধর্মী সৃষ্টি।
ডাচ শিল্পী অ্যাঁনে ভন ফ্রেইবুর্গের ট্যাপেস্ট্রি পেইন্টিংয়ে রোকোকো শিল্পের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আধুনিক ভিজ্যুয়াল ভাষায়। এ বছর মেলার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক সমসাময়িক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।
ম্যাকো জোন ফটো কিউরেটর লুইস গ্রাহাম বলেন, 'এ বছর কিছু গ্যালারিতে আমরা ঝুঁকি নিয়েছি। সমসাময়িক শিল্পের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে, যা সব সময় চোখে পড়ে না। কাজগুলোতে এআই-এর ব্যবহার অনেক সময় এতটাই সূক্ষ্ম যে আলাদা করে শনাক্ত করা যায় না।'
মেক্সিকান শিল্পী হাভিয়ের মারিন নিজের ভাস্কর্যগুলোকে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে দ্বিমাত্রিক প্রতিকৃতিতে রূপ দিয়েছেন, যা দর্শকদের বিশেষ নজর কাড়ছে।
মেক্সিকান শিল্পী হাভিয়ের মারিন বলেন, 'আমি কখনো হাইপার-রিয়ালিস্ট চিত্রকলা করেছি, কখনো রিটাচড ফটোগ্রাফি। আর এখন এআই টুল এসেছে, আমি শুধু ভাস্কর্যের একটি ছবি আপলোড করি, আর প্রোগ্রামটি ভাস্কর্যের গড়নেই নতুন ছবি তৈরি করে দেয়।'
এবারের মেলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বস্ত্র শিল্পকলা। কলম্বিয়ান কিছু শিল্পী মনে করেন, প্রাকৃতিক উপাদান ও টেকসই কারুশিল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ নতুন করে বাড়ছে।
আয়োজকদের মতে, উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনেক শিল্পকর্ম বিক্রি হয়ে গেছে, যা আজকের দিনের বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে শিল্পবাজারে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে সাজানো ২২তম জোনা মাকো আর্ট ফেয়ার শেষ হবে ৮ ফেব্রুয়ারি।



