বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল ওমান। শেষ ওভারে ৫ রানের পুঁজি নিয়েই নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়েছিল দলটি। আজ অস্ট্রেলিয়াকেও নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে ওমান। ৩৯ রানে হেরে গেলেও ম্যাচের বেশ দীর্ঘ সময় সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বেশ চেপে ধরেছিল ওমান।
তবে মার্কাস স্টয়নিসের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়াকে এ যাত্রা বাঁচিয়ে দিয়েছে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে এসে স্টয়নিস বলেছেন, এখনো আড়মোড়া ভাঙছেন তারা। গুছিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে তাদের।
ম্যাচ জিতিয়ে স্টয়নিস বলেছেন, ‘শুরুটা ভালোই হলো। হয়তো এখনো কিছু কবওয়েব রয়ে গেছে (অগোছালো), তবে এতে ভালোই হয়েছে। (এরপরও) জয় পেয়েছি, এটা ভালো দিক। কিছুটা ব্যাটিং ও বল করতে পেরেছি, এটাও ভালো।’
বার্বাডোজের উইকেট যে তাদের চমকে দিয়েছেন সেটা স্বীকার করেছেন তিনি, ‘স্পিন সামলানো কঠিন ছিল। কিছু বল নীচু হয়েছে, কিছু ঘুরছিল আবার কিছু ঘুরছিল না। তবে নতুন বলে পেসারদের খেলাও কঠিন ছিল।’
টস হেরে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া আজ যখন তৃতীয় উইকেট হারাল, তখন নবম ওভার চলছে। স্কোরবোর্ডে তখনো মাত্র ৫০ রান। আইপিএলে তাণ্ডব চালানো ট্রাভিস হেড ১০ বলে ১২ রান করে ফিরেছেন। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ২১ বলে করেছেন ১৪ রান। আর আইপিএলের ফর্ম টেনে নেওয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েল প্রথম বলেই ফিরেছেন।
ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টয়নিস তাই পুরোনো দিনের ক্রিকেটে ফিরেছেন। ১৪ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল মাত্র ৮০! ম্যাচের দিক বদলে দেওয়া ওভারের দেখা মিলেছে এরপর। মেহরান খানের ওভারে প্রথম বলে দুই রান নিয়েছিলেন স্টয়নিস। পরের বল মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। কিন্তু সে ক্যাচ সীমানায় ফেলে দেন আয়ান খান, ক্যাচ না হয়ে উলটো ছক্কা। ১৭ রানে জীবন পাওয়া স্টয়নিস ওই ওভারের বাকি ৪ বলে মেরেছেন আরও ৩ ছক্কা!
১৯তম ওভারে ৫১ বলে ৫৬ রান করা ওয়ার্নার ফিরে গেলেও ৩৬ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন স্টয়নিস। ২ চারের সঙ্গে তাঁর ইনিংসে ছিল ৬ ছক্কা। ৫ উইকেটে ১৬৪ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। জবাবে অবশ্য কখনোই জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি ওমান। প্রথম ওভারেই মিচেল স্টার্কের আঘাত। পঞ্চম ওভারে অন্য ওপেনারও বিদায় নিলেন। পাওয়ার প্লের শেষ বলে স্টয়নিসও তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে।
ওমানের ইনিংস তাই প্রত্যাশিত গতি পায়নি কখনো। ১৩তম ওভার শেষেও দলটি ৫৭ রানে আটকে ছিল, ততক্ষণে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে তারা। আয়ান খান (৩৬) এরপর একটু গতি বাড়ালেও ফিরে গেছেন ১৬তম ওভারে। ১৬ বলে ২৭ রান করা মেহরানের ইনিংসে দলটির রানরেট ৬ পার হয়। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১২৫ রানে থামে দলটি। ১৯ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন স্টয়নিস।
এদিকে স্টয়নিসের প্রশংসায় মাতলেও ‘মাকড়শার জাল’ প্রসঙ্গে একমত নন অধিনায়ক মার্শ, ‘ঠিক কবওয়েব কিনা আমি নিশ্চিত না, বরং ভিন্ন কন্ডিশনের কথা বলব। এমন উইকেটে কিছুটা ভিন্ন মনে হয় অনেক কিছু। তবে এটা রোমাঞ্চকর।’



